বরিশাল সিটির জনদুর্ভোগ

তিন প্রবেশদ্বারে হয়নি কোনো ফুটওভারব্রিজ

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মাসুদ রানা, বরিশাল

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নগরীর ভেতর দিয়ে যাওয়া হাইওয়ে সড়কের তিনটি পয়েন্টে রাস্তা পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণের। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, রুপাতলী বাস টার্মিনাল ও হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা মোড়ে এই দুরাবস্থা। কারো সহযোগিতা ছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধ মানুষের রাস্তা পারাপার সম্ভব হয় না। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব রেখে রাস্তা পার করে দিতে হয় কখনো। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে।

বাইপাস সড়ক না থাকায় নগরীর প্রবেশদ্বার নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, রুপাতলী বাস টার্মিনাল ও হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা মোড় থেকেই দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও লরীর আসা-যাওয়া করে। সেই সঙ্গে নগরীর ভেতর প্রবেশের জন্য এই তিন পয়েন্ট দিয়ে যাত্রীবাহী আলফা-মাহিন্দ্রা, অটো রিকশা চলে সারা দিন। এর ফলে ব্যস্ততম এই এলাকায় রাস্তা পারাপার হতে ঝুঁকি নিতে হয় নাগরিকদের। পথচারী ও সচেতন মহলের অভিমত, এমন দুর্ভোগ লাগবে তিন পয়েন্টে ফুট ওভার ব্রিজের বিকল্প নেই।

সরেজমিনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গিয়ে দেখা যায়, হাইওয়ে সড়ক ধরে বৃহত্তর বরিশালের উদ্দেশ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দুরপাল্লার ও লোকাল বাস নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থামে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন এলাকার উত্তর প্রান্ত থেকে আসা লোকজন শহরে প্রবেশ করতে হলে ওই টার্মিনাল চত্ত্বর হয়েই যেতে হয়। এর ফলে গাড়ি ও মানুষের চাপে পা ফেলার জায়গা থাকে না রাস্তায়।

এই এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ি মো. হায়দার জানান, এখানে প্রতিদিন ছোট-খাট দুর্ঘনায় আহত মানুষেরা প্রায়সই তার দোকানে চিকিৎসা নেন। তাই সাধারন মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনা এড়াতে ও গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফুট ওভার ব্রিজ প্রয়োজন।

এদিকে বরিশাল থেকে সড়কপথে পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা যেতে হলে নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনালের পরে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা স্টপিজ পার হতে হয়। আর উত্তর-দক্ষিণ মুখী হাইওয়ে সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে নবগ্রাম রোড নামে একটি সড়ক। ঝালকাঠি, আটঘর কুড়িয়ানা, স্বরূপকাঠি এলাকা ও বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের হাজারো মানুষ আলফা, অটো ও ম্যাজিক গাড়ীতে চড়ে শহরে প্রবেশ করে। তবে চৌমাথা চত্ত্বরে একটি কর্পোরেশনের বিশাল পুকুর পাড়ে বিনোদন প্রিয় মানুষের ভিড় থাকে। ফলে সারাদিন চলাচলের পর সন্ধ্যায় নগরবাসীর ভীড় থাকায় পারাপারের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষার দৃশ্য চোখে পরে সবসময়। এই রাস্তা পার প্রতিদিন আদালতে আইন পেশায় আসা আবুল বাসার জানান, এ চত্ত্বর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি চলে বেপরোয়া ভাবে। তার সঙ্গে মানুষের চাপ। তাই এখানে একটি ফুট ভার ব্রিজ প্রয়োজন।

এছাড়া বরিশাল শহরের প্রবেশ-বাইরের দ্বিতীয় গুরুত্ব পয়েন্ট রুপাতলী বাস টার্মিনাল। পটুয়াখালী, কুয়াকাটা; ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনার গাড়ী এখানে থামে। এই টার্মিণাল পার হয়েই ওই সব এলাকার মানুষ বরিশাল মহানগরের অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। ফলে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত যানজট ও মানুষের ভিড় থাকে। রূপাতলী চত্বরটি হাইওয়ে সড়কের মধ্যে পড়ায় দুরপাল্লার দ্রুতগতির গাড়ীও চলাচল করে।

‘রাস্তা পার হতে গেলে মনে হয় এই বুঝি গাড়ির নিচে পড়ে যাচ্ছি।’ এমনটাই জানিয়েছেন চত্তর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক এস এম হিরা। তার মতে, গ্রামের লোকজন বরিশালে চিকিৎসা নিতে এসে রুপাতলী বাসটার্মিনালে প্রবেশ মাত্রই রাস্তা পারাপারের সময় পাকড়াও খায়। এটা জনসাধারণের জন্য খুবই অসুবিধার।

জানতে চাইলে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল হাসান বলেন, এখনো নগরীতে ফুট ওভার ব্রিজ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়নি। তবে রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনালে ফুট ওভার ব্রিজ প্রয়োজন রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব চেষ্টা করবো জনদুর্ভোগ লাগবে ফুট ওভার ব্রিজ করার।

"