প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সিংড়ায় বরেন্দ্রর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সেচ মূল্য আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
ama ami

নাটোরের সিংড়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় গভীর ও অগভীর নলকূপের অতিরিক্ত সেচ মূল্য আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে কৃষকরা গত সোমবার উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গাঁও ও রঘুকদমা গ্রামের মাঠে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন বড়গাঁও, রঘু কদমা, হাতিয়ান দীঘি, ছাতুয়া, মষিগারী, তাড়াই, বড়ই চড়াসহ সাত গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক। এ সময় তারা কৃষকদের দাবি মানতে হবে, সেচের ন্যায্য মূল্য নিতে হবে, কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, অতিরিক্ত সেচ মূল্য বন্দ করো, করতে হবে প্রভৃতি সেøাগানে বিক্ষোভ করে।

কৃষকরা জানায়, সিংড়া উপজেলার বরেন্দ্র বহুমুখীর আওতাধীন এখানকার সাত গ্রামের মাঠ জুড়ে প্রায় ২০০ একর জমিতে তিটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের আওতাধীন গভীর নলকূপের সেচ মূল্য প্রতি ঘণ্টায় ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে। পুরো মৌসুম প্রতি বিঘা জমির সেচ মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১৫০০ টাকা। অথচ বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের তত্তাবধানে থাকা মালিক পক্ষের অপারেটররা তা মানছেননা। তারা এই তথ্য গোপন করে কৃষকদের কাছ থেকে ২৮০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত সেচ মূল্য আদায় করছেন। অর্থাৎ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত ১৩০০-১৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

রঘু কদমা গ্রামের কৃষক মুনছুর আলী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি সেখানে সেচ মূল্য ১২৫০ টাকা আদায় করছে কিন্তু আমাদের এখানে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করায় আমরা চলতি মৌসুমের শুরুতেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছি।

এ বিষয়ে হাতিয়ান দীঘি মাঠের অপারেটর শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সেচ মূল্য নিলে আমাদের কোনো লাভ থাকে না। কৃষকদের কাছ ২৬০০-২৮০০ টাকা চাই। মূলত ২৫০০ টাকা নেই। রঘু কদমা মাঠের অপারেটর মতিন সরকার ও হাশেম আলী একই মন্তব্য করে বলেন, আমাদের এই মাঠের জমিগুলোতে পানি টানে বেশি তা ছাড়া আগের চেয়ে বিদ্যুৎ খরচও বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা এই টাকা নেই।

উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচীব ও উপজেলা কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তহিদুল আলম বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় উপজেলায় মোট ৭৪টি গভীর নলকূপ আছে। এলাকার জমি ভেদে সেচ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার চামারী ও খাজুরা ইউনিয়ন ব্যতীত ডাহিয়া, ইটালীসহ ১০টি ইউনিয়নের মাঠের জমির সেচ মূল্য মৌসুমে প্রতি বিঘা ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেচ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নির্ধারিত সেচ মূল্যের চেয়ে কেউ বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"