কুমিল্লায় ১০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ

ফেব্রুয়ারির ৩ দিবসকে ঘিরে ব্যস্ত চাষি

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মারুফ আহমেদ, কুমিল্লা
ama ami

মানুষের ভালো লাগার বস্তুর মধ্যে ফুল অন্যতম। বরাবরই নানা উৎসব ও দিবসকে ধরে দেশে ফুলের চাহিদা ব্যাপক। দিন যত এগোচ্ছ দেশজুড়ে এর চাহিদা আরো বাড়ছে। আর এই চাহিদা মেটাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ছে ফুল চাষ। এর ফলে একদিকে ফুলপ্রমীদের চাহিদা যেমন সহজলভ্য হচ্ছে তেমনি এ পেশার সঙ্গে জড়িত হয়ে অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে। পুরো বছর নানা সামাজিক, ধর্মীয়, বিনোদন, সভা-সমাবেশে অতিথিদের বরণসহ নানা কাজে ফুলের ব্যবহার থাকলেও ইংরেজি ‘ফেব্রুয়ারি’ মাসের তিনটি বিশেষ দিনকে ধরে সারা দেশে ফুলপ্রেমীরা এক অন্যরকম উন্মাদনায় মেতে উঠে। এ মাসের তিনটি বিশেষ দিনে বাড়তি কিছু আয়ের স্বপ্ন দেখে ফুল চাষিরা।

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে বেসরকারিভাবে গড়ে উঠা নার্সারিীত দেখা গেছে। কেউ কেউ শখের বশে করা বাগানের ফুল দিয়েও প্রিয়জন বা পরিচিতজনদের ক্ষণিকের চাহিদা মেটাতে উদগ্রীব। বসে নেই সরকারি পর্যায়ে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা বা নির্দেশনায় সেখানকার চাষিদের ব্যস্ততাও। পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ বা পদস্থ কর্মকর্তাদের সরকারি অফিস বা বাসভবনে গড়ে উঠা ফুল বাগানের যতœও বেড়ে গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনায়। ভাষার মাসে ২১ ফেব্রুয়ারিী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাতের প্রথম প্রহর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রতিটি জনপদেও শহীদ মিনারে এই ফুল নিয়েই শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সবাই। আর এভাবেই ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ ১ ফাল্গুন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালিত হবে।

সদর উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সৈয়দপুর এলাকায় বিএডিসি কৃষি উদ্যানে এবার বেশ কিছু ফুলের গাছ উৎপাদিত করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের হাজার হাজার ফুল চাষীদের যতেœ নিবিড় পরিচর্যা হচ্ছে। কথা হয় উপ-সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার এখানে কমপক্ষে বিশ হাজারের মতো ফুলের চারা উৎপাদিত হয়েছে। বেশ কিছু ফুলগাছ বিক্রি হয়ে গেছে। তবে আসন্ন ভ্যালেন্টাইন ডে, ১ ফালগুন ও ২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে এখানকার ফুলগাছগুলো যতœ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ দিনগুলোতে এখানকার উৎপাদিত ফুলগুলো বিক্রির কথা তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, এখানে রয়েছে কমপক্ষে ১০-১২ জাতের ফুল গাছ। এখানে উৎপাদিত প্রতিটি গোলাপ ৫ টাকা, গাঁদা ফুলসহ গাছ ২০, বারবিনা ২০, চন্দ্রমল্লিকা ২০-২৫, পিটুনিয়া ২০-২৫, সাইলোসিয়া ২০, গ্লাইডিওলাস ৭, রঙ্গন ২০, ক্যালেন্ডুলা ১০, ডায়ান থায়াস ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

কুমিল্লায় শুধু সরকারীভাবে নয় বেসরকারীভাবেও ফুল চাষ হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য কুমিল্লা সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, দেবিদ্বার, বরুড়া, হোমনা, তিতাস উপজেলা এলাকায় কৃষকরা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বুড়িচংয়ের ফুল চাষী মাহবুব আলম জানান, ফেব্রুয়ারীর বিষেশ দিন গুলোতে আমরা অনেক বেশী ফুল বিক্রী করতে পারব আশা করছি। আর এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফুলের চাষ খুব ভাল হয়েছে, ভাল লাভের আশংকাও করেন তিনি। কুমিল্লার গোমতীর চর আড়াইওরা রেল ব্রিজ সংলগ্ন গোমতী নার্সারীর মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, গত ৮ বছর ধরে আমি নার্সারী ব্যবসা করছি, আমার নার্সারীতে ফুল এবং ফল গাছের চারা বিক্রি করি তার মধ্যে এ বছর প্রচুর পরিমানে ফুলের চারা বিক্রি করেছি। শুধু ফুল চাষীরা নয় সৌন্দর্য বর্ধনে বাসা বাড়িতে, অফিস-আদালতেও সৌখিন মানুষ এখন টবে করে ফুলের গাছ লাগাচ্ছে, আর তাতেই আমাদের ব্যবসায়ীদের সফলতা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতি. উপ-পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম জানান, কুমিল্লাতে বেসরকারীভাবে ১০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারীর বিশেষ দিনগুলোতে ফুল বিক্রি করে কৃষকরা ভাল লাভবান হবে বলে আশা করছি।

"