ফসলি জমির সঙ্গে বাঁধের মাটি ভাটায়

ভোলায় লালমোহনের ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আদিল হোসেন তপু, ভোলা
ama ami

ফসলের জমির সঙ্গে এবার মেঘনা সংলগ্ন বেড়িবাঁধের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন প্রভাবশালী মহল। ফলে আসন্ন বর্ষায় হুমকির মুখে পড়বে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ। ঝুঁকির মধ্যে আছে লালমোহনে উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের আশপাশে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক ভূমিহীন পরিবার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বেড়িবাঁধের মাটি কাটা হচ্ছে। আর জেলা প্রশাসক বলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা জেলায় মোট ১০৫টি ইটভাটা আছে বলে জেলা তথ্য অফিস সূত্রে জানা যায়। এর মধ্যে প্রায় ৭৬টি আধুনিক জিগজ্যাগ পদ্ধতি অনুসরণ করলেও বাকিগুলো ক্ষতিকর চিমনি পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া লাইসেন্স নবায়ন নেই একাধিক ভাটার, অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে ইট পুড়ানোর অভিযোগ আছে কয়েকটি ভাটার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনের লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ফাতেমাবাদ এলাকা গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাই যেন ধুলাময়। বেতুয়া সুইজ গেইট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের পাশে ও ফসলি জমিতে এস্কেবেটর (ভেকু) ব্যবহার করে মাটি কেটে ট্রাক্টর এবং ট্রলিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এই মাটি পার্শ্ববর্তী রওনক ঝিকঝাক ব্রিকস, চরফ্যাশনের বেতুয়া ব্রিকস, জনতা ব্রিকস, ফ্যাশন ব্রিকসের ভাটায় নিয়ে যাওয়া হবে শ্রমিক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়ছে বেড়িবাঁধের পাশে আশ্রয় নেওয়া হাজারো পরিবারের। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে।

এদিকে সরু রাস্তা দিয়ে মাটিবাহী যান চলাচলের কারণে ধুলবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি ও গাছপালা। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরেছে শিশুরা। রাস্তার বিভিন্ন স্থান ধসে যাওয়া পাশাপাশি গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পথচারীরা। ভেঙে পড়ছে পুকুর থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘর।

নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকাবাসী জানায়, লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম মিয়া নিজে ইটভাটা করার পর থেকেই একের পর এক অত্যাচারে স্বীকার হচ্ছি। এমনভাবে মাটি কাটছে যে, পুকুরে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পুকুরে পার থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘরে এখন ফাটল ধরেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নারীরা এখন পানির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না।

স্থানীয় আবদুল কফুর বলেন, নদী ভাঙা হাজারো পরিবার এখানে এক টুকরো জমি নিয়ে ২৫-৩০ বছর ধরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু এখন ইটভাটায় মাটি কেটে নেওয়াতে এখন ধুলাবালিতে মধ্যে বসবাস করছেন তারা। শুধু তাই নয়, শত শত বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় আবদুর রহিম বলেন, সরকার নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্লক দিচ্ছে। এখন ইটভাটার জন্য মাটি কেটে নিয়ে গিয়ে সেই জায়গাগুলো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে খাল কেটে কুমিড় আনছে। এ সময় মাটি কাটা বন্ধের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন অনুযায়ী, ইট তৈরির জন্য কৃষি জমি কিংবা টিলা থেকে মাটি কাটা নিষেধ। যদি কেউ এই আইন অমান্য করে মাটি কাটেন তার দুই বছর সাজা এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড দেওয়ার বিধান আছে।

জানতে চাইলে প্রতিদিনের সংবাদকে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, মাটি কাটার ফলে বেড়িবাঁধের কোন ক্ষতি হচ্ছে না। পরিত্যাক্ত বেড়িবাঁধের মাটি কাটা হচ্ছে। আর কিছু জমি হচ্ছে মালিকানা, তাদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে জমির মাটি কিনে নেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা মাটি কাটছে তারা পার্শ্ববর্তী বেতুয়া ব্রিকস, জনতা ব্রিকস, ফ্যাশন ব্রিকস এসে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে বসছি। অচিরেই তারা মাটি কাটা বন্ধ করবে বলে জানায়।

রাস্তার কিছু ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, এছাড়া যারা বেড়িবাঁধের পাশে ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন, তাদেরকে গুচ্ছগ্রামে, আশ্রয়প্রকল্প স্থানান্তরীত করে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিবো। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইনের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, আমরা অচিরেই এর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

"