সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ক সংস্কার

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ওয়ালি মাহমুদ সুমন, নীলফামারী
ama ami

জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণ কাজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে আর দশ মাস হাতে থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে সড়ক বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ প্রদানের নামে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে ভূমি মালিকদের অভিযোগ। তারা বলছেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার আব্দুল বাতেন এ অর্থ আদায় করছেন। এমনকি শর্তে রাজি না হলে চেক প্রদানের নানাভাবে হয়রানী করারও অভিযোগ আছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সুত্র জানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেকে) ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সৈয়দপুর-নীলফামারী আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৫৭০) প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে সড়ক বিভাগ। একই বছরের আগস্ট মাসে ঠিকাদারী দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ সম্পাদনে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। গত বছরের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পাদনের সময় সীমা থাকলেও কাজ শুরুর সাত মাসেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। সড়ক বিভাগ জানায়, সাড়ে পনের কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণে ২২.১১১ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অধিগ্রহণ নিয়ে কাজ এগুয়নি তেমন।

নীলফামারী থেকে সৈয়দপুর সড়কের প্রথম অংশে সাড়ে সাত কিলোমিটারের ঠিকাদার মিজানুর রহমান জানান, কালিতলা থেকে শহরের প্রবেশ পথে কোন জমি বুঝে দেওয়া হয়নি আমাদের। তিনি বলেন, এমনিতে অনেক লেস দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের, এখন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারি তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে জমি ও অবকাঠামো মালিকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান করে জমি বুঝি দেওয়ার আহ্বান জানান।

একই অবস্থা গ্লোরি সিরামিকস থেকে সৈয়দপুর অংশেও। ওই সড়কে জমি পড়া ইটাখোলা ইউনিয়নের হরিবল্লব এলাকার সাবেত আলী জানান, আমাদের সাত ভাইয়ের প্রায় ১৪ শতক জমি পড়েছে এখনে। আমাদের নোটিশ দিয়ে জানানোর কথা থাকলেও কিছুই জানানো হয়নি।

সংগলশী ইউনিয়নের উত্তরা ইপিজেড এলাকার নুরনবী জানান, নির্মিতব্য সড়কের উপরে আমার দোকান ঘর পড়েছে। দোকান ঘরের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নামে হয়রানী করছেন ডিসি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল বাতেন। এতে যে দাম পাবো, তার চেয়ে বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উৎকোচ গ্রহণ করেছে আমার কাছ থেকে।

ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, আমার একখন্ড জমি পড়েছে রাস্তায়। শ্রেণি পরিবর্তন করে বেশি টাকা নিয়ে দেবার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করে আব্দুল বাতেন। আমি দিতে চাইনি এজন্য নানা ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ডিসি অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করছে সে।

নীলফামারী-ডোমার সড়কের টুপামারী ইউনিয়নের বনবিভাগ এলাকায় স্থাপন করা হচ্ছে বাফার (বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার) গুদাম। জমি মালিক আব্দুল জলিল বলেন, ভূমির ক্ষতিপূরণের জন্য বর্তমান রেটের চেয়ে বেশি দেখিয়ে টাকা নিয়ে দিবেন জানিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন সার্ভেয়ার আব্দুল বাতেন। এনিয়ে ডিসি অফিসে অভিযোগ করা হলেও উল্টো আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, চিকিৎসক আবুল হাসান বুলু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোপূর্বে এশিয়ান হাইওয়ে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন সার্ভেয়ার আব্দুল বাতেন। পরে স্বপদে পুর্নবহাল হন। তবে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ডিসি অফিসের এলএ শাখার সার্ভেয়ার আব্দুল বাতেন। তিনি জানান, আমি কোন অনিয়ম করিনি। স্বচ্ছ ভাবে কাজ করেছি। এসব মিথ্যে।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান জানান, কার্যাদেশ প্রদানের সাত মাস অতিবাহিত হলেও কাজ সন্তোষ জনক এগুয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ, গাছ কর্তন, বিদ্যুতের খুঁটি প্রতিস্থাপন কাজে ধীরগতির কারণে কাজও ধীরগতিতে চলছে। তিনি বলেন, সড়কটি আটটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ছাড়াও সড়কটির নিরাপত্তার জন্য রক্ষাপ্রদ কাজ ও সাইন সিগন্যাল, গাইড পোস্ট, রোডমার্কিং করা হবে।

‘আইন অনুযায়ী’ ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে দাবি করে জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন বলেন,‘ জমি অধিগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদী কাজ। প্রথম ফেইজের মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণের টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সড়ক বিভাগকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ফিল্ড বুকে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই ক্ষতিপুরণ পাবেন, যদি কেউ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"