তাড়াশে ২৫০ বছরে দইমেলা

উপঢৌকনের প্রথা থেকে ঐতিহ্যের অংশ

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ২৫০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী দইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দিনব্যাপী মেলা ঘিরে এলাকায় সাজ সাজ রব বিরাজ করে। গত শনিবার সন্ধ্যায় নামিদামি ঘোষদের দই আসার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী দইয়ের এ মেলা শুরু হয়ে থাকে। মেলায় দইসহ মুড়িমুড়কি, চিড়া, গুড়, রসনা ও বিলাসী খাবার কেনা চলে। চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলায় দইমেলা নিয়ে রয়েছে নানা গল্পকাহিনি।

উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তি সৌরেন্দ্র নাথ ঘোষ জানান, তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈঞ্চব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম দইমেলার প্রচলন করেছিলেন। সাধারণত জনশ্রুতি আছে তৎকালীন পরম বৈঞ্চব জমিদার রাজা রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। এ ছাড়া জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হতো। আর সে থেকেই জমিদার বাড়ির সম্মুখে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী দইমেলা বসত। প্রতি বছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দইমেলায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর থেকে ঘোষেরা দই এনে মেলায় পসরা বসিয়ে বিকিকিনি করতেন। কথিত আছে সবচেয়ে ভালো সুস্বাদু দই তৈরিকারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন প্রদান করা রেওয়াজ ছিল। তবে জমিদার আমল থেকে শুরু হওয়া তাড়াশের দইয়ের মেলা এখনো মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে উৎসব আমেজে বসার বাৎসরিক রেওয়াজ এখনো আছে। দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে।

যেমনÑ ক্ষীরসা দই, শাহী দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরী দই এ রকম হরেক নামে-দামের হেরফেরে বিক্রি হয়। বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, চান্দাইকোনা, শ্রীপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দই প্রচুর বেচাকেনা হয়। একাধিক ঘোষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়েছে। তবে মেলা এক দিনব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে কোনো ঘোষের দই অবিক্রিত থাকে না। যার কারণে মেলার আগেই ঘোষেরা দই তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

"