নিরাপত্তাহীনতায় বাদী

যশোরে ইজিবাইকচালক হত্যার আসামিরা প্রকাশ্যে

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের ঝিকরগাছায় ইজিবাইকচালক ফারুক হোসেন (৩০) হত্যার ঘটনায় মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের ভাই মহিউদ্দীন ও তার স্বজনদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে আসামিরা। দুইজন আসামি কারাগারে থাকলেও বাকী ১৭জন প্রকাশ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় ২৫ জানুয়ারি ফারুক হোসেনের ভাই মহিউদ্দিন বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গত ২৩ জানুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে ইজিবাইকচালক ফারুক হোসেনকে (৩০) কুপিয়ে জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। মুমূর্ষ ফারুককে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিনই ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। সেখান থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ২৭ জানুয়ারি রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।

মামলার ১৯ আসামির মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মৃত জামাল বিশ্বাসের ছেলে মশিয়ার রহমান ও মতিয়ার রহমান কারাগারে রয়েছে। বাকী ১৭ জন আসামি গত ২৬ জানুয়ারি জামিন নেন।

এদিকে আসামিদের জামিনের একদিন পর ২৭ জানুয়ারি ফারুক হোসেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২৮ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিকদার রকিব উদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মারপিটের মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার আবেদন করেন। হত্যা মামলা হিসেবে আদালত নথিভুক্ত করেছে। হত্যা মামলা রেকর্ড হলেও আসামিরা জামিনে রয়েছে। প্রকাশ্যে তারা নানাভাবে বাদী পক্ষকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বাদী পক্ষ।

নিহত ফারুক হোসেনের ভাই তাজউদ্দিন বলেন, মাদকের ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ফারুক হোসেন, বাবা গোলাম হোসেন, ভাই মহিউদ্দিন ও মাহাবুবুর রহমানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আসামিরা। এ ঘটনায় ফারুক তিনদিন পর মারা যায়। ফারুক মারা যাওয়ার একদিন আগেই ১৭ আসামি জামিন নিয়েছে। তারা এখন প্রকাশ্যে আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাদী পক্ষের লোকজনকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমন কোন খবর আমার জানা নেই। বাদী পক্ষের লোকজনও আমাকে জানাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"