অর্থ বরাদ্দ নেই হওয়া ও সদিচ্ছার অভাব

শহীদ মিনার নেই কলারোয়ার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

কলারোয়ায় ২১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ২৬টিতে

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
ama ami

বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জনের দিন এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। সেই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে দেশের সবশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সরকারি নির্দেশনা আছে। অথচ নির্দেশনা বাস্তবায়ন তদারকি না থাকায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজো নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। ফলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ ভাবে পালিত হয় না শহীদ দিবস।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এছাড়া পরিচালনা কমিটিগুলো উদ্যোগী না হওয়া এবং অভিভাবক ও বিদ্যোৎসাহীদের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে অমর একুশে এলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা কাঠ-বাঁশের অস্থায়ী বেদি তৈরি করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি, কলরোয়ার ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ভাষা আন্দোলনের অগ্রভাগের সৈনিক ও শিক্ষক নেতা প্রয়াত আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং তরুন প্রজন্মের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর তদারকি করতে হবে। ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামুলক শহিদ মিনার নির্মাণের আহ্বান তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলায় ২১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টি শহীদ মিনারসহ উপজেলায় ‘স্বাধীনতা’ স্তম্ভের পাশে নির্মিত কেন্দ্রীয় মিনারসহ মোট ২৬টি শহীদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসদরে ৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে ২০টি শহীদ মিনার। তবে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের (কয়লা, জালালাবাদ, যুগীখালী) কোন স্থানেই আজ পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। আবার অবহেলিত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিনারসহ কয়েকটি।

কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় ৪টি সিনিয়র মাদরাসাসহ ৩১টি এমপিওভূক্ত মাদরাসা রয়েছে। তবে কোন মাদরাসায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এছাড়া উপজেলার ৪৮টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই এবং ১২টি সরকারি-বেসরকারি কলেজের মধ্যে ৮টি কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হয়নি ভাষা শহীদ স্বরণে শহীদ মিনার।

অপরদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ১২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে বাকী ১২২টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মানের কোন উদ্যেগ নেয়া হয়নি।

এমন পরিস্তিতিতে উপজেলার সামাজিক সংগঠনের নেতারা জানান, ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বরণে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক শহীদ মিনার নির্মাণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন ও শহিদ মিনার সম্পর্কে জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে উপজেলার ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক ও শিক্ষক নেতা প্রয়াত আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে জোর দাবি জানান এসব সংগঠনের নেতারা।

কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও ভাষা প্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য শহীদ মিনার নির্মাণ খুবই জরুরি, কিন্তু সরকারি ভাবে কোন বরাদ্ধ না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলি ইচ্ছা থাকলেও শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারছে না। শহীদ মিনার নির্মাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে তিনি সরকারি অর্থ বরাদ্ধের দাবি জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, শহীদ মিনার নির্মানে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মানের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শহীদ মিনার নির্মনের বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান।

"