মোরেলগঞ্জে সেতুর ভগ্নদশা ৩ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ama ami

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ও বারইখালী ইউনিয়নের একটি কাঠের সেতুর ভগ্নদশার কারণে তিন গ্রামের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের হোগলপাতি গ্রাম ও বারইখালী ইউনিয়নের গোয়ালবাড়িয়া গ্রামের বারইখালী সংযোগ খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় পড়ে আছে। সেতুর তক্তা ও পুরাতন খাম্বা খসে খসে পড়ছে। মাঝ বরাবর একটি মাত্র খাম্বার ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন মাদরাসা, স্কুল-কলেজের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের কোলে নিয়ে সেতুটি পার হতে হয় অভিভাবকদের। ঝুঁকির কারণে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়।

সুতালড়ী-গোয়ালবাড়িয়া এবং ভাষানদল-হোগলপাতি গ্রামের সংযোগ সেতুর এক পাড়ে রয়েছে এইচভিএস হাজী নূরউদ্দিন দাখিল মাদরাসা, হোগলপাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামে মসজিদ, একাধিক হাটবাজার, মক্তবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অপর পাড়ে রয়েছে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মসজিদ। বারইখালী ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার লোক সহজ পথে এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। তাছাড়াও প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, ভ্যান এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় জনসাধারণ নিজস্ব উদ্যোগে সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে কোনো মতে সচল রাখার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের টানাপড়েনে পড়ে সেতুটি নিজেই এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ায় পথে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ কাঠের এ সেতুটি পুনর্নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল রহিম বাচ্চু ও বারইখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান লাল সেতুটি পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করেছেন বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসিক ইয়ামিন জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে।

"