প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির উদাসীনতা

বেনাপোল-শার্শার ৮২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
ama ami

আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস পালনে ও ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে যশোরের বেনাপোল ও শার্শায় ৮২ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোন শহীদ মিনার। অথচ সরকারিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন করার নির্দেশ থাকলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছরেও জেলার শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। বিশেষ করে উপজেলা ও পোর্ট থানার ৩৩টি মাদরাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই। তাছাড়া প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়েও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হয় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ আছে। এসব কলেজ, স্কুল ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে সমাজের নামি-দামি ব্যক্তিরা শীর্ষ পদে থাকলেও দীর্ঘদিনেও শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারেনি তারা। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ও বরনে। অন্যদিকে নানা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে ভাষাপ্রেমী মানুষের মধ্যে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা ও বেনাপোলে ২৬৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১২৬টি প্রাথমিক ও প্রি-ক্যাডেট এবং কমিউনিটি মিলিয়ে আরো রয়েছে ৫৪টি। এদের মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র ১৮টিতে। ৩৮টি হাইস্কুলের মধ্যে ২৬টিতে শহীদ মিনার আছে। ১২টি কলেজের মধ্যে মাত্র ৩টিতে শহীদ মিনার আছে। ৩৩টি মাদরাসার মধ্যে একটিতেও কোন শহীদ মিনার নেই। তবে সব মিলিয়ে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। অভিযোগ আছে, মাদরাসাগুলোতে দিবসটি পালন করা হয় না। কোন কোন মাদরাসায় নামমাত্র মিলাদ মাহফিল ও পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনসহ কোন ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার মানুষ।

উপজেলার নাভারন বুরুজবাগান ফাজিল মাদরাসার সুপার একিউএম ইসমাইল হোসাইন জানান, মাদ্রাসাটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত হলেও অদ্যবধি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একই দাবি করেন উপজেলার লক্ষণপুরের রহিমপুর আলিম মাদরাসার সুপার মাওলানা শহিদুল্লাহ। অনেকে আবার নানা সংকটের কথা তুলে ধরে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

নাভারন ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজের ছাত্রী শারমীন নাহার জানান, আমাদের কলেজে শহীদ মিনার না থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেটে বুরুজবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয়। অথচ আমাদের কলেজের পরিচালনা পরিষদে নামী দামি ব্যক্তিরা রয়েছে। তারা ইচ্ছা করলেই ৭ দিনের মধ্যে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিতে পারেন।

নাভারন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল জানান, আমাদের কলেজের পাশেই হাইস্কুলের শহীদ মিনার থাকায় এখানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যকতা থাকলেও শার্শা-বেনাপোলের অনেক প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। উপজেলার ১২টি কলেজ, ৩৮টি হাইস্কুল, ৩৩টি মাদরাসা ও অসংখ্য কিন্ডার গার্ডেন এর মধ্যে মাত্র ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। কিন্তুু ৩৩টি মাদ্রাসার একটি তেও শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে পত্র দেওয়ার পরও তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি।

শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রি-ক্যাডেট এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৪টি। ১৮০টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬২টিতে কোন শহীদ মিনার নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক, উপজেলার প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিত। শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। এটা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করতে পারে। সরকারি-বেসরকারি ভাবে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য শহীদ মিনার নির্মাণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

"