ফুলবাড়ী সীমান্তে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপনের দাবি

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ama ami

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপনের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ দাবিতে স্থানীয় ভাবে জন সচেতনতার সৃষ্টি ও আন্দোলন সংগঠিত হলে দ্রুত সময়ে এ দাবিটি বাস্তবায়ন হবে বলে ধারনা সচেতনমহল। ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট স্থাপন হলে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারীসহ জেলা সদরের প্রায় ১০ লাখ মানুষ খুব সহজেই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, চিকিৎসা সেবা, ব্যবসা-বানিজ্য গড়ে উঠবে। বর্তমানে এ অঞ্চলের মানুষ পাশ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থল বন্দর হয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরে ভারতে যাতায়াত করতে হয়। এলাকাবাসী ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে উপজেলার শিমুলবাসী ইউনিয়নের জুম্মারপাড়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ওই স্থানে চেক পোস্ট স্থাপন করার জন্য দাবি করে অসছেন। ওই স্থানের বিপরীত পাশে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার কুর্শাহাট থরাইখানা ভারত-বাংলাদেশ আন্তার্জাতিক সীমান্ত মেইন পিলার-৯৩৮। এখানে চেক পোস্ট স্থাপিত হলে দশ লাখ মানুষের লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী হয়ে চ্যাংড়াবান্ধা দিয়ে ভারত যাওয়ার দীর্ঘ ২৫০ কি.মি. পথ কমে আসবে।

জুম্মারপাড় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক জানান, আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা জনিত কারনে দুই বার ভারতের ব্যাঙ্গালুর যাই। বাড়ীর কাছেই ভারত হলেও লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম বুড়িমারী হয়ে চ্যাংড়াবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যেতে হয়েছে। বুড়িমারী ইমিগ্রেশন থেকে ব্যাঙ্গালর যাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার নিউ-কোচবিহার রেলস্টেশন পৌছেতে ৮৬ কিলোমিটার ও শিলিগুড়ি স্টেশন পৌছেতে ৮৫ সহ সর্বমোট ২০০-২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় এবং অর্থ দুটোই বেড়ে যায়। তিনি আরো জানান, উপজেলার জুম্মারপাড় ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট স্থাপন হলে ভারতের নিউ-কোচবিহার রেলস্টেশনের দুরুত্ব হবে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার।

সিনিয়ার সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম জানান, দেশ ভাগের পর এ অঞ্চলের লোকদের সঙ্গে ভারতীয়দের র্দীঘদিনের সর্ম্পক বন্ধ হয়, ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট স্থাপন হলে সেই সর্ম্পক পূণঃস্থাপিত হবে।

সাবেক বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারতীয় অংশের সভাপতি দ্বিপ্তীমান সেন গুপ্ত মোবাইল ফোনে জানান, লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট ও ভারতের পাশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গীদালদাহ ইমিগ্রেশন চেক পোস্টটি র্দীঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দুই দেশের সরকার প্রধান মেরামত পূর্বক এটি চালুর দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার জানান, ফুলবাড়ী বাসীর র্দীঘদিনের স্বপ্ন জুম্মারপাড় সীমান্তে ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট হিসাবে দেখতে চায়। ইতোমধ্যেই নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট স্থাপনের জন্য জোড়দাবি জানিয়েছি। তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন। আশা করি এই সরকারের আমলেই চেক পোস্ট চালু হবে। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি’র ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আনোয়ার-উল-আলম জানান, এটি সরকারী সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট হলে আমরা স্বাগত জানাবো।

 

"