মাধবপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল

৮ বছরেও চালু হয়নি অপারেশন কার্যক্রম

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)
ama ami

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধনের প্রায় ৮ বছর পার হলেও চালু হয়নি অপারেশন কার্যক্রম। অ্যানেস্থিয়িা ও সার্জারি জুনিয়র কনসালট্যান্ট না থাকায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা যাচ্ছে না। অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর বাক্সবন্দি অবস্থায় তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে আছে। ফলে গর্ভবতী মায়েদের সিজার সুবিধাসহ রোগীরা সার্জারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উন্নীত করা হলেও চিকিৎসকসহ নানা সংকটে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ হ ম রুহুল হক মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে উদ্বোধন করেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও স্বাস্থ্য সেবার তেমন উন্নতি হয়নি এখনও। ৫০ শয্যায় উন্নতি হলেও চিকিৎসক সংকট লেগে আছে শুরু থেকেই। এ হাসপাতালে ১০ জন অনুমোদিত জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ থাকলেও অধিকাংশ পদই শুন্য রয়েছে। বর্তমানে শিশু, দন্ত ও কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট দিলীপ সরকারকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সপ্তাহে ২/৩দিনের বেশি তিনি মাধবপুর হাসপাতালে সময় দিতে পারছেন না। এখানে অর্থপেডিকস ইএনটি চর্ম ও যৌন, সার্জারী, গাইনী, অ্যানেস্থিসিয়া জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ খালি রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ ১২ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৬ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছে। এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন থেকে বিকল পড়ে আছে। প্যাথলজি পরীক্ষাও হয় নামে মাত্র।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএইচএএম ইশতিয়াক মামুন বলেন, অপারেশন থিয়েটারটি চালু করতে হলে অ্যানেস্থিসিয়া ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট প্রয়োজন। এ দুটি পদ শূন্য থাকায় ওটি চালু করা সম্ভব হচেছ না। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই এর সুফল পাবো।

 

"