কৃষি বিভাগের আগ্রহ কম

সনাতনী কায়দা আঁকড়ে আছে মনু তীরের আখ চাষিরা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
ama ami

বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। পরিবর্তন এসেছে সংস্কৃতিতেও। যে কারণে এক সময় গ্রামে শীতের পিঠাপুলি তৈরি করতে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়া করতেন নারীরা। গ্রামীণ চাষাবাদের মাধ্যম ছিল গরুচালিত লাঙল। একইভাবে যাঁতাকলে মাড়িয়ে বের করা হতো আখের রস। তৈরি হতো রসাল সব গ্রামীণ পিঠা।

বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে নতুন নতুন অত্যাধুনিক মেশিনের আবির্ভাব হওয়ায় এসব ঐতিহ্য এখন হুমকির মুখে। কিন্তু কিছু কিছু গ্রামে এই আধুনিকায়নের ছোঁয়া এখনো লাগেনি। এখনো সেই গ্রামের আখ চাষিরা সনাতনী কায়দায় আখ মাড়াই করে নানা রকম উপকরণ তৈরি করছেন। এ রকম দৃশ্য দেখা যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর পাড়ের বিভিন্ন গ্রামে। সেখানে আখ চাষিদের ভাগ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি এখনো। তারা আঁকড়ে আছে বাপ-দাদার সনাতনী ঐতিহ্য নিয়ে। কৃষি বিভাগও এসব চাষিদের নিয়ে কোনো ভ্রƒক্ষেপ করে না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মনু নদীর পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের চকরনচাপ, রনচাপ ও গাজীপুর, টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রাম, সন্দ্রাবাজ গ্রামে হচ্ছে বিশাল আখ চাষ। মনু নদীর বেড়িবাঁধের ভেতর অংশে প্রচুর আখের চাষাবাদ হয়েছে।

আখ চাষিরা জানান, তারা এসব আখ চাষে খুব একটা পরিচর্যা করেন না। মনুর চরে বর্ষাকালে যে পলি আটকে সেই পলিতেই নতুন করে গজায় আখ গাছ। গাছের পাতাগুলো শুধু ছাঁটাই করে দেন তারা। আর শীতকাল এলেই সেই সনাতনী পন্থা কুল আর মাড়াই কল দিয়ে রস বের করে আগুনে জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়।

সনাতন কায়দা হলেও কৃষকের তৈরি গুড়ের কদর মানুষের কাছে আকাশচুম্বি। প্রতি ৮ টিন রস জাল দিলে এক টিন গুড় হয়। সেই এক টিন গুড়ের দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। চাহিদা প্রচুর থাকলেও আখ চাষি বিক্রেতাদের চাহিদামতো গুড় সরবরাহ করতে পারেন না। বিশেষ করে শীতকালে এই গুড়ের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

হাজীপুর ইউনিয়নের চকরনচাপ গ্রামের আব্দুর রহিম, দয়াল মিয়া, মছব্বির আলী, সেলিম আহমদ, টিলাগাঁও ইউনিয়নের সন্দ্রাবাজ গ্রামের আব্দুল আহাদ, আশফাক তানভীর জানান, প্রতিদিন তাদের খরচ মহিষ ভাড়া ৪০০ এবং মাড়াইকল ভাড়া ১০০ টাকাসহ মোট ৫০০ টাকা খরচ আছে। এক মৌসুমে খরচ বাদে তারা মাথাপিছু প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। চাষিরা আরো জানান, পটক, কালামানিক, লোহারটং নামক স্থানীয় জাতের আখ চাষ করে থাকেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ কিংবা কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কোন কর্মী তাদের কোনরকম পরামর্শ দেন না।

জানতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার জগলুল হায়দার জানান, আখ চাষিদের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আখ চাষে কীভাবে কৃষকদের আরো উদ্বুদ্ধ করা যায়, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তার দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 

"