শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বিফল সব আয়োজন

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার জন্য নতুন পাকা ভবন, আসবাবপত্র ও পৃথক শৌচাগার প্রস্তুত আছে। বসানো হয়েছে সুপেয় পানির গভীর নলকুপ। কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয়নি শিক্ষক, নেই শিক্ষার্থীও। ফলে বিফল হয়ে গেছে সব আয়োজন। অযতœ-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আড়াই কোটির অধিক টাকার সরকারি সম্পদ। এ অবস্থা বরগুনার বেতাগী উপজেলার ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। আর ডেপুটেশন শিক্ষক দিয়ে সীমিত ভাবে চলছে আরও ২টি বিদ্যালয়।

জানা যায়, বিদ্যালয়বিহীন ১৫০০ গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প নেয় সরকার। এই থেকে এই বিদ্যালয়ের নামের আগে ‘পনেরশ’ শব্দ উল্লেখ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরের উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে সর্দারপাড়া হাবিবুব রহমান চান মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করে সরকার। এতে ব্যয় হয় ৫০ লাখ টাকা। এর পরের বছর ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের হোসনাবাদ ইউনিয়নে পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামে মোহাম্মাদীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। এতে ব্যয় হয় ৬১ লাখ টাকা। একই ভাবে সাড়ে ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বিবিচিনি ইউনিয়েনে এম এ খান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের সাড়ে ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ ফুলতলা মোস্তফা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের ভবনগুলো হস্তান্তর করেছে ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব বিদ্যালয়ে এখনো স্থায়ীভাবে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই ভর্তি করা হয়নি কোনো শিক্ষার্থী। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে বিদ্যালয় ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা। তবে এম এ খান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ জন এবং মোস্তফা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন শিক্ষক ডেপুটেশনে বদলী করা হয়। ফলে সীমিত ভাবে চলছে বিদ্যালয় ২টির কার্যক্রম।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিহীন মোহাম্মদীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে দৃষ্টি নন্দন নতুন ভবন। কিন্তু এগোতেই চোখে পড়ে ভবনের সব কক্ষে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ালেখা করছে। দারিদ্র কবলিত এ গ্রামের বিদ্যালয় চালু না হওয়ায় অনেক ছেলে মেয়েরা দুরের বিদ্যালয়ে না গিয়ে সংসারের কাজকর্ম করার ফলে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ করে বিদ্যালয়ের অন্যতম জমিদাতা মো. এনছাব আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার অবেহেলিত ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য বাবার নামে এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। তিনি জানান, তার ভাইদের সঙ্গে তিনিও বিদ্যালয়ের নামে ৩০ শতাংশ জমি দান করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি চালু না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এলাকার বাসিন্দা ও বেতাগী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মো. শাহীন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ৪ বছর আগে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়টি চালু করা যাচ্ছে না বলে শুনছি। বিদ্যালয়টি চালু হলে গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখায় আরও বেশি আগ্রহী হতো।

ভবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ভবন নির্মাণের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান উপজেলা প্রকৌশল অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়গুলোর কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিটক হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয় চালু করার জন্য সব সুবিধা বিদ্যমান আছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাজীব আহসান বলেন, বিদ্যালয় সমুহ চালু করার বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার এখনো বিদ্যালয়গুলো চালু করা যাচ্ছে না। শিক্ষক পদায়ন হলেই এসব বিদ্যালয় চালু করা হবে। প্রায় একই কথা বলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এমএম মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা সফল করতে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে এসব বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষক না থাকা সম্পর্কে বলেন, এ বছর শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

"