নাটোরের ৭ উপজেলাতেই এসিল্যান্ডের দায়িত্বে ইউএনও

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নাটোর-বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

নাটোর জেলার সাত উপজেলাতেই এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। ফলে উপজেলা ভূমি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর এ সুযোগে উপজেলা ভূমি অফিসসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর ঢিলেঢালা দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। দাফতরিক অনেক কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সেবা নিতে এসে বিড়ম্বনার শিকার একাধিক ব্যক্তি এ অভিযোগ করছেন।

নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও সদর উপজেলায় বদলী জনিত কারণে এসিল্যান্ড পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নলডাঙ্গা উপজেলাতে এই পদে এখনও কোন সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের পদায়ন হয়নি। লালপুরের এসিল্যান্ড সাদিয়া আফরিন মাতৃত্বকালীণ ছুটিতে আছেন। বাকি দুই উপজেলা অর্থাৎ সিংড়া ও বাগাতিপাড়ার এসিল্যান্ড পাঁচ মাসের বিভাগীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কারণে সেখানে ওই পদে ইউএনও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

বড়াইগ্রামের ইউএনও মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, দীর্ঘ পাঁচ মাসের অধিক এসিল্যান্ড পদে কোন কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকারি নির্বাচন কমিশনার, সহকারি কমিশনারসহ (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এ কর্মকর্তঅ বলেন, কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বা ফসলী জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে ওঠে না। অপরদিকে কোন ছুটি ভোগ করার বিন্দু মাত্র সুযোগও পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জেলার সবকটি উপজেলাতেই কার্যত এসিল্যান্ড পদটি শূন্য রয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, আমি কয়েক মাস ধরে এই জেলায় যোগদান করেছি। বিষয়গুলো আমার জানা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও মাতৃত্বকালীণ ছুটি শেষে সংশ্লিষ্ট তিনজন যোগদান করবেন। এক্ষেত্রে বদলী জনিত কারণে শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। শীঘ্রই এই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

"