রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল

গ্যারেজবন্দি থেকেই নষ্ট সরকারি দুই অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
ama ami

সাড়ে তিন দশকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দা পেয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের সরকারি হাসপাতাল। ‘অকেজো’র অজুহাতে অন্ধকার কক্ষে বন্দি থেকেই পেরিয়ে গেছে সেবাদানের কাল। সাড়াই যোগ্য অ্যাম্বুলেন্স এখন ভাঙাড়ির কাছে কেজি দরে বিক্রির উপক্রম। এতে করে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে সাড়ে চার লক্ষাধিক উপজেলাবাসী।

প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গুণময় পোদ্দার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের অনুকূলে ১৯৮২ সালে প্রথম এম্বুলেন্স বরাদ্ধ হয়। এর দুই দশক পরে ২০০৩ সালে ২৬ এপ্রিল আরো একটি নতুন এম্বুলেন্স (সিএএ-৭১-০৩০৪) বরাদ্দ আসে। এরপর দুই-তিন বছর অতিবাহিত না হতেই কর্তৃপক্ষ পুরনো অ্যাম্বুলেন্সসহ নতুন অ্যাম্বুলেন্স বিকলের অজুহাতে হাসপাতালের একটি অন্ধকার কক্ষে রেখে দেয়।

রামগঞ্জ পৌরসভা এলাকাসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, সরকারি হাসপাতালের আশপাশসহ শহরে অর্ধশতাধিত প্রাইভেট ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকে রয়েছে নিজস্ব এম্বুলেন্স। আর সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররাই ওইসব ক্লিনিকে চওড়া ভিজিটে রোগী দেখে থাকেন। এর ফলে প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকরা ডাক্তারদের সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলো পরিচালনা করছেন। এতে করে জনসাধারণকে চড়া মূল্যে ওইসব প্রাইভেট এম্বুলেন্স ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে এই মূল্য আরো বেড়ে যায়। আর এরজন্য ডাক্তাররা সুবিধা পেয়ে আসছেন বলেও তাদের অভিযোযগ।

উপজেলার করপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক মুজিব বলেন, আমার এলাকা থেকে মুমূর্ষু কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে চাইলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না, এতে অনেক ভোগান্তির শিকার হন এলাকাবাসী। তাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমার এলাকাবাসীর দাবী।

জানতে চাইলেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গুণময় পোদ্দার জানান, এম্বুলেন্স বিশষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ মিথ্যা। বর্তমানে হাসপাতালের এম্বুলেন্স দুটি সত্যিকার অর্থেই বিকল। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে কি নাগাদ এম্বুলেন্স দুটি সচল হতে পারে সে বিষয়ে কোনো সময় উল্লেখ করতে পারেন নি এই কর্মকর্তা।

"