শ্রীপুরের শিশুপল্লী

সবহারাদের আনন্দমেলা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

রাজীবুল হাসান, শ্রীপুর (গাজীপুর)
ama ami

কুড়িগ্রামের অসহায় মাহেলা বেগম। সাত বছর আগে স্বামী তাকে ফেলে চলে গেলে তিনি একমাত্র সন্তান নিয়ে ভীষণ অর্থকষ্টে ভুগছিলেন। ভিক্ষা করা ছাড়া তার কোন উপায় ছিল না তার। পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় তিনি ঠাঁই নেন শিশুপল্লী প্লাসে। এখানে তিনি তার একমাত্র সন্তান নিয়ে বেশ ভালো আছেন।

কক্সবাজার থেকে সুমজীদা আক্তার গত ২ বছর আগে অভাবের সংসার ছেড়ে চলে এসেছেন গাজীপুরের দাতব্য প্রতিষ্ঠান শিশুপল্লীতে। এখানে তিনিও খুব সুখে আছেন। শুধু মাহেলা কিংবা সুমজীদা নয়-এই প্রতিষ্ঠানে সবাই নিজের মাথা গুজার ঠাঁইসহ কর্মসংস্থান পেয়ে ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার গাজীপুরের ওই শিশুপল্লীতে বসেছিল এক আনন্দমেলা। প্রতিষ্ঠানের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এখানে আশ্রয় নেওয়া সদস্যরা এবাবেই তাদের গল্প ব্যক্ত করছিলেন।

বুধবার দিনব্যাপী উপজেলার টেংরায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে দিনের শুরুতে শান্তির প্রতিক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের শিশুরা একে একে অভিনয়, নাচ, গান প্রদর্শন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমাতুজ জোহরাকে নিয়ে তিনি শিশুদের মাঝে উপহার হিসাবে চকলেট বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান তৃসা সিলভেস্টার, ট্রাস্টি মেম্বার ডেরেক পালমার, পিটারসহ বিভিন্ন দেশের অতিথিরা। পরে শিশুদের সাথে ফটো সেশন করেন উপস্থিত সবাই।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শিশু পল্লী প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রেসিয়া অ্যান ভিভিয়ান কার। শিশুপল্লী প্লাসের টকিং সাইন্সের প্রবর্তক ইংল্যান্ডের লেডি সু টিউনি ক্লিফ।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শিশুপল্লী দেশের এক মাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা মা ও শিশুকে একই সাথে আশ্রয় দেয়। জেলা প্রশাসক ড.দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর তার বক্তব্যে বলেন, মা ও শিশুদের জন্য এমন আশ্রয়স্থল ৩০ বছর ধরে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।

"