উখিয়ায় সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে

প্রকাশ | ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের উখিয়ায় চলতি মৌসুমে সেচ সংকটে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছেন চাষীরা। উপজেলার কৃষকদের ধারনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা হাজারো অধিক গভীর নলকুপ স্থাপন করেছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ভুগর্ভস্থ পানির স্থর আশংকাজনক ভাবে নিচে নেমে যেতে পারে। এছাড়াও নির্বিচারে পাহাড় কাটা, গাছপালা ধ্বংসসহ পরিবেশের ওপর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ফলে সেচ সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশ বাদী সচেতন মহল।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলায় ২৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগ বালায় দূরীকরন প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। বোরো চাষে চাহিদামতো পানি নিস্কাসনের জন্য ১৮৬২ টি বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ও ১২৬ টি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষন প্রকল্পের আওতায় চাষীদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ২৭ হাজার ১৬১ জন প্রান্তিক ক্ষুদ্র বর্গা চাষীসহ পেশাদার কৃষকদের এ প্রশিক্ষনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও তাদেরকে প্রশিক্ষন বাবদ দৈনিক ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলার বেশ কয়েকজন পেশাজীবি কৃষকের সঙ্গে আলাপ করা হলে তারা জানান, গত মৌসুমে বোরো যে বাম্পার উৎপাদন হয়েছে চলতি মৌসুমে তা নাও হতে পারে। মাছকারিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তার এলাকা সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় আড়াই শতাধিক গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য। এসব গভীর নলকুপের কারনে তাদের বসতবাড়ীর অগভীর নলকুপ গুলোর পানি শুকিয়ে গেছে। পালংখালীর তাজনিমারখোলা গ্রামের কৃষক আমানত উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গাদের সুবিধার্থে বসানো গভীর নলকুপের কারনে পানির স্থর নিচে নেমে গেছে। সামনে খরা মৌসুমে মারাতœক পানি সংকট দেখা দিতে পারে। যার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চালিত সেচ পাম্প দিয়েও পানি সংকট দুর করা যাবেনা। এমন শঙ্কা নিয়ে শতশত কৃষক আশা নিরাশার দোলা চলে বোরো আবাদে নামলেও তাদের মাঝে বিরাজ করছে পানি সংকটের গভীর হতাশা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, এ উপজেলায় বিশেষ করে পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক যেসব গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে তার কারনে স্বাভাবিগত ভাবে পানির স্থর অত্যাধিক নিচে নেমে যেতে পারে। এ সময় যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে বোরো আবাদে তেমন কোন ক্ষতি হবেনা। তবে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, অনাবৃষ্টি ও খরাই ফসলের হানি হতে পারে।

"