কেশবপুরের ২৪৭ হেক্টর জমিতে পান চাষ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে পান রফতানি হচ্ছে বিদেশেও

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
ama ami

যশোরের কেশবপুরে উৎপাদিত পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। পানচাষ করে লাভের মুখ দেখছেন স্থানিয় চাষীরা। উপজেলা শহরে শনি, সোম ও বুধবার পানের হাট বসে। বিভিন্ন অঞ্চলের পান ব্যাবসায়ীরা এ বাজারের পান ক্রয় করে রাজধানীসহ বিদেশেও রপ্তানি করে থাকেন। পান চাষীরা জানান, গত বছর জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক পান বরজ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় অনেক পান চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছর জলাবদ্ধতা না থাকায় পান চাষে ঝুঁকে পড়েছেন অনেক কৃষকরা। উপজেলার সাঁগরদাড়ি, কোমরপুর, মঙ্গলকোট, আলতাপোল, ব্রহ্মকাটি, রামচন্দ্রপুর, মধ্যকুল, পাঁজিয়াসহ অনেক গ্রামে এ পান চাষ হয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে পানের বরজ। ব্রহ্মকাটি গ্রামের তারিফ মোড়ল ও হযরত আলী জানান, গতবছর জলাবদ্ধতার কারণে পান বরজে হালকা পানি উঠায় আমরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে পড়েছিলাম। এ বছর জলাবদ্ধতা না থাকায় বরজে ব্যাপক ফলন হয়েছে। বাজারে পানের দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। তাদের মতে, দেড় থেকে দুই বিঘা জমিতে পানের বরজ থাকলে এবং তার সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে পারলে অধিক লাভবান হওয়া যায়। কোমরপুর গ্রামের পান চাষী রমজান আলী জানান, গত বছর কপোতাক্ষ নদের পানিতে আমার প্রায় ২০০ শতক জমির পান নষ্ট হয়েছিল। এ বছর জলাবদ্ধতা না থাকায় বরজে অধিক পানের ফলন হয়েছে। পান বিক্রি করে সংসার চালানোসহ ছেলে- মেয়েদের পড়া শোনার খরচও চালিয়ে যাচ্ছি।

পান চাষী আবদুল মালেক, আনন্দ রায়, রবীন দাস, গোবিন্দ রায়, গৌর পদ দাস, গোলাম মোস্তফা, আলা উদ্দীন আলী, আবদুল খালেকসহ অনেকেই জানান, আমরা কেশবপুর শহরে প্রতি হাটবারে পান হাটায় পান বিক্রি করি। আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের পান ব্যবসায়ীরা পান ক্রয় করে রাজধানীসহ বিদেশেও রপ্তানি করে। উপজেলার প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারের দোকানদাররা পান ক্রয় করে খিলি পান হিসাবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে থাকে। উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, উপজেলায় ২৪৭ হেক্টর জমিতে পান চাষ করেছে কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশির ভাগ কৃষকরা পান চাষ করেছেন। তিনি মাঝে মধ্যে এসব এলাকায় ঘুরে পান চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

"