আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও দাম নিয়ে শঙ্কিত চাষিরা

সোনারগাঁয়ে আলুর বাম্পার ফলনের আশা

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক আলু চাষ করে সংরক্ষণের দুশ্চিনায় পড়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চাষীরা। আলু সংরক্ষণে উপজেলায় কোনো হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) না থাকায় এই অবস্থা তৈরি। ফলে আলু তোলার মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই আলুর উত্তোলন খরচ, হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ব্যায় এবং বাজার দর নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় কৃষকরা।

প্রতিবছরের মতো সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরাঞ্চল চরকিশোরগঞ্জ ও পৌর সভার আমিনপুর এলাকায় এলাকায় সাধারণত ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গেনেলা, পেরাটন, ওকামা, বিনালা ও মালটা জাতের প্রচুর পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। প্রতিবছর সাধারণত ৩০০ হেক্টরের অধিক জমিতে আলু চায় হয় সোনারগাঁ উপজেলায়। গতবছর আলু চাষের সাফল্য বিবেচনায় রেখে এ বছর উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি অধিদপ্তর। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এর পরিমাণ প্রায় ২০০ হেক্টর বেশি। তারপরও এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে আলু চাষে। অন্যান্য বছরের তুলনায় আলু চাষের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন কৃষকরা।

চরাঞ্চলের আলু চাষীদের সঙ্গে আলাপ কালে প্রতিদিনের সংবাদকে জানায়, স্থানীয় কৃষকদের দুঃশচিন্তা পরিবহন সংকট, আলু সংরক্ষণে চাহিদার তুলনায় হিমাগারের সংখ্যা অপ্রতুল এবং বাজার মূল্য নিয়ে শঙ্কিত তারা। তাছাড়া এ বছর হিমাগারে আলু সংরক্ষণে বস্তা প্রতি মূল্য বৃদ্ধি সহ নানা কারণে হিমাগার পরিচালনা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার বস্তা প্রতি প্রায় ২০/৩০ টাকা করে বেশি খরচ পড়বে। কৃষকরা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মূল্যে যে ভাবে ধান, চাল, গম ক্রয় ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, আলুর ক্ষেত্রে সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

স্থানীয় আলু চাষীরা জানান, সোনারগাঁয়ে এ বছর আলু চাষে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং পোকা মাকড় রোগ বালাই কম হওয়ায় চাষীরা আলু চাষে উৎসাহিত হয়েছেন বেশি। তবে প্রতি বছরই এ অঞ্চলে আলুর আবাদী জমির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া আলু সংরক্ষণে খুব কাছাকাছি মুন্সীগঞ্জ মোক্তারপুর হিমাগার থাকায় এবং বিগত সময়ে আলুতে কৃষকদের লাভ বেশি হওয়া ও আলুর ফলন ভাল হওয়ার কারনে এসব এলাকায় দিন দিন আলুর আবাদ বেড়েছে। চর কিশোরগঞ্জ এলাকার আলু চাষী সোরহাব মোল্লা জানান, তিনি প্রতি বছরই আলু চাষ করেন। এবারও প্রায় ২২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মন দরে আলুর ফলন পাওয়া যায়। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং জমিতে কোন রোগ বালাই নেই বিধায় আলুর বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন তিনি। আলু তোলার কাজ শেষ হলে ঐ জমিতে আবার তিল, তিশি, কাউন আবাদ করবেন তিনি।

দশদোনা গ্রামের কৃষক জমির আলী জানান, তিনি গত বছর ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর তিনি জমি বাড়িয়ে ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। আলু বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ নিরানী সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে এখন শুধু আলু তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশেক পারভেজ জানান, সোনারগাঁ উপজেলার চরাঞ্চলের মাটি আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আমি উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ ও আমিনপুর এলাকার আলু জমিগুলো পরিদর্শন করেছি। সোনারগাঁ উপজেলায় এ বছর ৫০০ হেক্টর লক্ষ মাত্রার চেয়ে আরো অধিক পরিমান জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং রোগ বালাই না থাকায় প্রতিটি জমিতেই আলুর বাম্পার ফলনের আশাবাদী। কিন্তু আলুর ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

সোনারগাঁয়ের অধিকাংশ আলু সংরক্ষণের জন্য ধলেশ্বরী দিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ধলেশ্বরী সংলগ্ন সদর উপজেলা মুক্তারপুর এলাকাই প্রধান। পশ্চিম মুক্তাপুরের টংগীবাড়ী হিমাগারের ম্যানেজার আব্দুল মালেক বলেন, ‘জেলায় যে আলু উৎপাদিত হয় তা তুলনায় জেলায় কোল্ড স্টোরেজের পরিমাণ বেশি। তাই সোনারগাঁর আলুর ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় কৃষককে আলু চাষে উৎসাহিও করা হয়।’ আলু সংরক্ষণ ব্যয়ের প্রসঙ্গ বলেন, আগে ৮০ কেজির বস্তায় আলু রাখার জন্য ৩০০ টাকা নেওয়া হতো। ২০১৮ সালের সরকারি নির্দেশ মতো ৫০ কেজির বস্তায় সংরক্ষণ ও ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ায় শ্রমিক ব্যয় বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এই ব্যয় আরো বেড়ে গেছে। তাছাড়া আলুর দাম কমে গেলে স্টোরেজ খালি করাই সমস্যা হয়ে যায়। তবে এ বছর আলু সংরক্ষণ ব্যয় গত বছরের তুলানায় বৃদ্ধি করা হয়নি বলে জানান।

"