আত্রাইয়ে আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি
ama ami

শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসন্ন ইরি-বোরো ধান চাষাবাদের জন্য আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। স্বল্প খরচে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আদর্শ বীজতলার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জানা গেছে, ১ মিটার প্রস্থ বেড করে ও দুই বেডের মাঝে নালা রেখে প্রধানত আদর্শ বীজতলা করা হয়। ১ শতক বীজতলার চারা দিয়ে প্রায় ২০ শতক ধানের জমি রোপণ করা যায়। আদর্শ বীজতলার চারায় কুশি গজায়। এ কারণে মাত্র একটি বা দুটি চারা দিয়ে একটি গোছা তৈরি করা যায়। অপর পক্ষে সমতলী বীজতলার চারা লিকলিকে চিকন, দুর্বল এবং কম বাড়তি সম্পন্ন হয়। ফলে ওই চারা দিয়ে ধানের জমি রোপণ করলে ধানের ফলন কমে যায়। আদর্শ বীজতলার প্রতি বর্গমিটারে ৩০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে ১ শতক আয়তনের বীজ তলায় মাত্র ১ হাজার ২০০ বীজ প্রয়োগ করতে হয়। পক্ষান্তরে সমাতলী বীজতলায় এর থেকে আনেক বেশি বীজ লাগে। আদর্শ বীজতলার ওপরে কোন বাড়তি পানি জমা হতে পারে না। সমান হারে বীজগুলো বীজতলায় দেয়া সম্ভব হয়। ফলে প্রত্যেকটি চারা সমান মানের হয়। উপজেলার ভবানীপুর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা এখন সবাই আদর্শ বীজতলা তৈরি করছি। এতে ামরা ভাল মানের চারা তৈরি হবে। এ বীজতলায় বীজ কম লাগছে। রোপণের সময় চারা সাশ্রয় হয়। এ চারা দিয়ে লাইন লোগো পদ্ধতিতে ধান রোপণ করে গত কয়েক বছর ধরে ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফি উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বীজতলায় রোগ বালাই হয়না বললেই চলে। এতে বীজ খরচ কম হয়, জমিতে ধান রোপণে চারা কম লাগে। ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়। কৃষকরা অনেক লাভবান হন। আশা করছি আগামী বছর থেকে শতভাগ আদর্শ বীজতলা তৈরি করবে কৃষকরা।

আত্রাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে বরাবরের ন্যায় উপজেলায় এবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন বেশি হবে। বোরো আবাদের উপযোগী সব জমিকে চাষের আওতায় আনতে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।

"