খসে পড়ছে পলেস্তরা দেয়ালে ফাটলের দাগ

আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ মাদ্রাসা ভবনে চলছে ১ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

এম এ সাইদ খোকন, আমতলী (বরগুনা)
ama ami

ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে, দেয়ালে দাগ কেটে গেছে ফাঁটলের চিহ্ন, গোটা ভবনই ধসে পড়তে পারে যে কোনো দিন। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান। তবুও নেই ভবন সংস্কার, মেরামত ও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ। ফলে অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম। এ অবস্থা বরগুনার আমতলী উপজেলা হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমচিলা গ্রামের আমিনিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমচিলা গ্রামের আমিনিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসাটি ১৯৬০ সালে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অনেক সুনামের সঙ্গে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। মাদ্রাসাটি ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষায় উপজেলায় শীর্ষে অবস্থান করছেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনা করতে আসে। প্রতি বছর মাদ্রাসাটি উপজেলায় ইবতোয়ী ১ম শ্রেণি থেকে ফাজিল (ডিগ্রী) পর্যন্ত ভাল ফলাফল করে আসছে। অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলীর দ্বারা পরিচালিত মাদ্রাসাটি দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে ৪টি টিনসেট ভবনে পাঠদান কর্মসূচী চলছে। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলও আশানুরূপ। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা একএম রুহুল আমিন খান বলেন, ১৯৬০ সালে স্থাপিত মাদরাসাটি ১৯৮০ সালে এমপিও ভূক্তি হয়। ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে মাদরাসাটি বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০০ হাজার। পুরোন মাদ্রাসা হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের জন্য কয়েকটি ভবন প্রয়োজন। একটি একাডেমিক ভবন ১৯৯৭ সালে নির্মিত হওয়ার পর আর কোনো মেরামত হয়নি। বর্তমানে একডেমিক ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এতে অনেক সময় প্রযোজনীয় কাগপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দাখিল, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে। দেশের সর্ব দক্ষিণে উপকুলবর্তী হওয়ায় সিড়র ও আইলায় মাদরাসার ঘর, ছাত্রাবাস ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারী ও নিজস্ব অর্থায়নে মাদরাসাটির গৃহ পুনঃনির্মাণ করা হয়। এতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনেক টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। পরে অর্থের অভাবে আর প্রয়োজনীয় গৃহ, ছাত্রাবাস ও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, অতিপ্রাচীন এ মাদ্রাসাটিতে সরকারী ভাবে আধুনিক মানের ভবন, বিজ্ঞানাগার, ছাত্রাবাস নির্মাণ করা জরুরী। নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে মাদরাসাটিতে আরো ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়বে। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান।

"