পোলট্রি খামারে ভাগ্য খুলেছে বিদেশফেরত আরিফের

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

পোল্ট্রি খামার করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গড়পাড়া গ্রামের বিদেশ ফেরত যুবক আরিফুল ইসলাম আরিফ। পোল্ট্রি খামার করে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তার পুঁজি দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বেকারত্বের চাপ দূর করতে ২০০৮ সালে ওমানে পাড়ি দেয় আরিফ। সেখানে দীর্ঘ ৬ বছর থাকার পরও আর্থিক সচ্ছলতা আনতে পারেননি তিনি। পরে দেশে ফিরে সখের বসে বাড়ির ছাদে কয়েকটি বয়লার মুরগির বাচ্চা পালন শুরু করেন। অল্প দিনের ব্যবধানে ১০ হাজার টাকা লাভ পেয়ে খামার করার আগ্রহ বেড়ে যায় আরিফের। এরপর ধীরে ধীরে বাচ্চার সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে আরিফের ৫৩ শতাংশ জমিতে একটি বিশাল আকাঁরের বয়লার মুরগির খামার রয়েছে। তিনি খামারটির নামকরণ করেন ‘ইফরান পোল্ট্রি ফার্ম’। খামার পরিচর্যার জন্য এলাকার ৮/১০ জন বেকার যুবককে ৭ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজও দিয়েছেন আরিফ। তার খামারে মাংসের উপযোগী প্রায় ১৫ হাজার মুরগি রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন পাইকাররা আরিফের ফার্ম থেকে মুরগি নিয়ে যাচ্ছে। শুধু মাত্র মুরগি বিক্রি করে আরিফ এখন প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করছেন।

আরিফুল ইসলাম আরিফ প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারিনি। দেশে এসে সখের বসে কয়েকটি বয়লার মুরগির বাচ্চা পালন শুরু করি। অল্প সময়ে ভালো লাভ পেয়ে কিছু জমি লিজ নিয়ে খামার গড়ে তুলি। বিভিন্ন ফার্ম থেকে বয়লারের বাচ্চা ও খাবার সংগ্রহ করে এই ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে নগদ টাকায় মুরগি নিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে বয়লার মুরগির তেমন কোন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয় না। বেকার যুবকরা পোল্ট্রি খামার করে খুব অল্প সময়ে নিজেদের বেকারত্ব দুর করতে পারে। এছাড়া খামার করলে মাংসের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অনেকের কর্মসংস্থানও করা যায়।

পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, লেয়ার মুরগি পালনের চেয়ে বয়লার মুরগি পালন অনেকটা সহজ। এই জাতের মুরগি সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে। সঠিক সময়ে বাচ্চা মুরগিকে গামবোর ও রানিক্ষেত রোগের ভ্যাক্সিন দিলে আর কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না।

"