কোল্ড ইনজুরিতে খুলনার বোরো বীজতলা

প্রকাশ | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা ব্যুরো

কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে খুলনাঞ্চলের বোরো বীজতলা। শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা এবং লবণাক্ততার কারণে বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ব্যহত হতে পারে জেলার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। তবে বীজতলা রক্ষায় ছাই ব্যহারের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদরা। এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর।

এদিকে নড়াইল টোনা বেসরকারি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. পারভেজ আহমেদ পলাশ জানান, ১৬ জানুয়ারির পর থেকে আরো একটি শৈত্যপ্রবাহর সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় এবার বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর। বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর। ইতোমধ্যে বোরো রোপন হয়েছে ৭০ হেক্টর জমিতে এবং বীজতলা তৈরি হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিকে কোল্ড ইঞ্জুরির ক্ষতি প্রতিরোধে হিসেবে রবি (খরিপ-১) প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ২৪৫ কৃষককে বীজ এবং সার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

ডুমুরিয়ার বাদুড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, মঠবাড়িয়া গ্রামের সোহেল রানা, চাকুন্দিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম মোড়ল ও আব্দুস সবুর জানায়, এ বছর আমাদের ধানের পাতা মরে যাওয়ায় উচ্চ মূল্যে পাতা ক্রয় করে জমি চাষাবাদ করতে পারব কি না জানি না। উপজেলার বাইরে থেকে চড়া দামে পাতা ক্রয় করে রোপন করলেও তা নোনার কারণে মারা যাচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঠান্ডার কারণে এবং দেরীতে বীজতলা বপন করায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে লবণাক্ততার কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত কোল্ড ইনজুরি প্রতিরোধে কৃষকের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। আমার বীজতলাকে শৈত্য প্রবাহের হাত থেকে রক্ষা করতে ছাই ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি।

খুলনা মেট্রোপলিটন (লবণচরা) কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জেসমিন ফেরদৌস জানান, তীব্র শীত পড়লে কৃষক কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তখন বীজতলার ওপর সাদা পলিথিন ব্যবহার এবং দিনে ও রাতে বীজ তলার পানি পরিবর্তন করে সে সমস্যার সমাধান করে থাকে স্থানীয় কৃষকেরা। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। খুলনা জেলায় বার্ষিক খাদ্য চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯১ মেট্রিক টন। ২০১৭-২০১৮ বছরে খাদ্য শস্য (চাল, গম) উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০১৭-২০১৮ বছরে খাদ্য উদ্বৃত্ত হয় ৬০ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল লতিফ জানান, আমরা ২০১৭-২০১৮ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন অর্জন করতে সমর্থ্য হয়েছি। বড় ধরণের কোনো বিপর্যয় না হয়ে এবারও বাম্পার ফলন হবে। শীতের মধ্যেও কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো আবাদে। কিছু কিছু জায়গায় বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যারা দেরিতে বীজ বুনেছে তাদের সমস্যাটা একটু বেশি। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কিছু জমিতে লোনার প্রভাবই বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি দেওয়া যেতে পারে।

"