নন্দীগ্রামের কুঁচিয়া মাছ যাচ্ছে বিদেশে

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কুঁচিয়া মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন আদিবাসী, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনসহ বিভিন্ন ধর্মের শতাধিক মানুষ। আর এ কুচিয়া মাছ যাচ্ছে দেশ-বিদেশে। কুঁচিয়া মাছ কেনার জন্য উপজেলার দুটি স্থানে গড়ে উঠেছে বেচাকেনার আড়ৎ। সেখান থেকে সপ্তাহে প্রচুর পরিমাণ কুঁচিয়া মাছ বিদেশে রফতানির লক্ষে ঢাকায় পাঠানো হয়। যা উপজেলায় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কুঁচিয়া দেখতে অনেকটাই সাপের মতো। এর রয়েছে বিভিন্ন নাম, কুঁচে মাছ, কুঁচিয়া, কুইচ্চা বা কুঁচে বাইম। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ। বিশেষ করে কুঁচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন। জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই কুঁচিয়া মাছ ধরা হলেও বছরের নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত কুঁচিয়া মাছ ধরার উপযুক্ত মৌসুম। প্রতিদিন একজন মংস্য শিকারি গড়ে ৪ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত কুচিয়া মাছ ধরতে পারেন।

ধুন্দার গ্রামের কুঁচিয়া মাছ শিকারি নিমাই চন্দ্র জানান, পুকুর অথবা জলাশয়ের ধারে ছোট ছোট গর্ত চিহ্নিত করে মোটা সুতার সঙ্গে বড়শি বেঁধে তার সঙ্গে কেঁচো অথবা ছোট ব্যাঙ লাগিয়ে সেই গর্তের মধ্যে ফেলে একটু নাড়া দিলেই কুচিয়া মাছ বড়শিতে আটকে যায়। স্থানীয় ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। ইউসুবপুর গ্রামের আদিবাসী শিকারি মতি উরাও জানান, সকাল হলে ২-৩ জন করে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কুচিয়া শিকার করতে বের হন তারা। সারাদিনে গড়ে ৪-৭ কেজি কুচিয়া শিকার করতে পারেন। দিন শেষে সংগ্রহকৃত কুচিয়াগুলো পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে ৬০০-১০০০ টাকা হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেন। এভাবে কুচিয়া মাছ বিক্রি করে তাদের শতাধিক পারিবারের সংসার চলছে।

ওমরপুর বাজারের আড়ৎদার শ্রী সত্তেন সরকার বলেন, তারা সরাসরি কুচিয়া মাছ বিদেশে পাঠাতে পারেন না। তিনি প্রতি সপ্তাহে ৯০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত কুচিয়া মাছ ঢাকায় পাঠান। কয়েকদিন পর এই মাছ আড়াই থেকে তিন হাজার কেজি পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন বলে জানান তিনি। জানা গেছে, ঢাকার আড়ৎদাররা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কুচিয়া মাছ চীন, হংকং, ভারত, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করেন। আমাদের দেশেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ কুচিয়া মাছ খেয়ে থাকেন।

"