সবুজ বনে এস্কাভেটরের থাবা

কক্সবাজারে রেললাইনের মাটি বিক্রি করছে সংঘবদ্ধ চক্র

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মহসীন শেখ, কক্সবাজার

কক্সবাজারে রামুতে নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে ঘন সবুজ বনের মাটি। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে একাধিক বড় গাড়ি। এই ট্রাক চলাচলের জন্য বনের পাশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। এই রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী বনের পাহাড় কেটে।

জেলার উত্তর বন বিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের কালিরছড়া বন বিট কার্যালয়ের পাশে চলতে এই মাটি লুটের ঘটনা। প্রকাশ্যে স্কেভেটরও ব্যবহার করে পাহাড় কাটা হলেও বন্ধে উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। রেল লাইন নির্মাণের নামে ব্যক্তিগত কাজে এই মাটি ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রামু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, গত একমাস ধরে রশিদ নগরের নতুনবাজারের পূর্বপাশে পাহাড়তলী এলাকায় নতুন বাজার থেকে পাহাড়ের ভিতর প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে আশপাশের পাহাড়ের মাটি। এছাড়া ৫ কিলোমিটার ভিতর থেকেও নিয়ে আসা হচ্ছে মাটি।

জানতে চাইলে স্থানীয়রা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বিষয়টি স্থানীয়রা বন বিভাগকে অবহিত করলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি। এ অবস্থায় বিশাল একটি পাহাড়ে ৮ জানুয়ারি সকাল থেকে স্কেভেটর লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কেভেটর দিয়ে পুরো পাহাড় সাবাড় করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। না প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জানান, স্থানীয় পাহাড়তলী এলাকার মৃত ছৈয়দুর রহমানের পুত্র এমতাজুল হক প্রকাশ এনতাজের (৩৭) নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি ও রাস্তা তৈরি করছে। তবে চক্রটি ‘দুর্ধর্ষ’ প্রকৃতির হওয়ায় প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এছাড়া দিনে-রাতে মাটি পরিবহনের ফলে আশ-পাশের এলাকায় তীব্র ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে এমতাজুল হক এনতাজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। আশেপাশে কোথাও পাহাড় কাটা হচ্ছে না। এছাড়া বনকর্মীরা এখানে কেন আসবেন?’

যোগাযোগ করা হলে মেহেরঘোনা রেঞ্জের কর্মকর্তা মামুন মিয়া বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি নিচ্ছে। তবে আমি ছুটিতে থাকায় আজ-কালের মধ্যে কোন পাহাড়ে স্কেভেটর লাগানো হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মুমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কালিরছড়ায় স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহবুব মোর্শেদও ব্যবস্থা নিবেন বলে প্রতিি জানান।

"