খোয়াই থেকে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে ৩ সেতু

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বারবার পদক্ষেপ নিয়েও খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এমনকি ব্রিজের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকিতে রয়েছে ঢাকা-সিলেট সড়কে একটি রেলব্রিজসহ ৩টি ব্রিজ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরেই শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কোন মানুষ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন করে আসছে বালুখেকোরা। অনেক সময় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জেল জরিমানা করলেও পুনরায় শুরু করে বালু উত্তোলন।

এদিকে, ব্রিজের গোড়া থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ঢাকা-সিলেট লাইনের একটি রেলব্রিজ, ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ ও পুরাতন মহাসড়কের ব্রিজটি হুমকীর মুখে পড়েছে। ব্রিজের গোড়া থেকে মাটি-বালু সরে গিয়ে দূর্বল হয়ে পড়ছে ব্রিজ তিনটি। যে কোন সময় ব্রিজ তিনটিতে ধস দেখা দিতে পারে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, বছর দেড়েক আগে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের লোকজনের উপস্থিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্রিজের গোড়া থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ময়না মিয়া নামে এক বালু উত্তোলনকারীকে অর্থদন্ড করা হয়। একই সঙ্গে তার ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। এরপর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর আবার ময়না মিয়া ও তার লোকজনদের নেতৃত্বে আবারো রেলের ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। শুধু বালুই নয় নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলন করেও বিক্রি করে আসছে চক্রটি।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নিয়মিত ব্রিজের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজনের বাধাও তারা শুনে না। আমরা কোন প্রতিবাদ করলে আমাদের মারপিঠ করে।

তবে এ বিষয়ে বার বার বালু উত্তোলনাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এটি একটি নবগঠিত উপজেলা। এখনও এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে বাহিরে নজর রাখা এই মূহুর্তে সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও যখন শুনেছি, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

"