রংপুরের আগাম আমের মুকুল

ঘন কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা চাষিদের

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

রংপুর অঞ্চলের আম গাছগুলোতে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। নানা ফুলের সঙ্গে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও। পৌষের শেষেই এই মুকুলে আম চাষিদের মনেও আশার প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। তবে ঘন কুয়াশার শঙ্কা করছেন কৃষি অফিস। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শীত বিদায় নেওয়ার আগেই আমের মুকুল আসা ভালো নয়। এখন ঘন কুয়াশা পড়লে গাছে আগেভাগে আসা মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা ফলনেও প্রভাব ফেলবে। গতকাল মঙ্গলবার রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। সোনারাঙা সেই মুকুলের সৌরভ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা।

আম চাষীরা জানান, এ মৌসুমে রাজশাহীতে তীব্র শীত নামেনি। অন্য মৌসুমের চেয়ে এবার তাপমাত্রা কিছুটা বেশি। তাই ফেব্রুয়ারির শেষে আমের মুকুল আসার কথা থাকলেও এবার এক মাস আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল চলে এসেছে। গ্রামের আম গাছগুলোতে এখনও তেমন মুকুল দেখা যায়নি। তবে নগরীর অধিকাংশ গাছেই এখন মুকুল দেখা যাচ্ছে। আম চাষি আব্দুল মান্নান জানান, তিনি আম গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন। মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। প্রায় গাছেই আমের মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তবে গুটি ও আশ্বিনা জাতই বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করছেন এবার আমের ফলন ভালো হবে। মাহিগঞ্জ এলাকার আম ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, মাসজুড়ে যদি ঘন কুয়াশা স্থায়ী হয় তাহলে মুকুলের ক্ষতি হবে। পাউডারি মিলডিও রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব মুকুলের অধিকাংশই ঝরে যাবে। ফলে এ ধরনের বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান জানান, রংপুরে প্রতি বছরই কিছু আম গাছে আগাম মুকুল আসে। এবারও আসতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে। তবে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ থাকলে এ মুকুলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

"