দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট

সরু চ্যানেলে ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি চলাচল

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
ama ami

নাব্য সংকট কাটাতে নিয়মিত খনন করেও কাজ হচ্ছে না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। ফলে ওয়ানওয়ে সরু চ্যানেলে চলাচল করছে ফেরি। এতে পাশাপাশি দুটি ফেরি অতিক্রম করতে সমস্যা হচ্ছে। এদিকে কুয়াশার কারণেও সমস্যা হচ্ছে ফেরি চলাচলে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

নাব্য সংকটে গত ২৬ ডিসেম্বর বড় রকমের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা। নৌ-কর্তৃপক্ষ ও ঘাটে ব্যবসায়ি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন পাটুরিয়ার তিন নম্বর ফেরি ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা। ফেরিটি ঘাট ছেড়ে সরু চ্যানেল অতিক্রম করার সময় পিছনে ছোট-বড় আরো তিনটি ফেরি অপেক্ষা করছিল। এসময় বিপরিত দিক থেকে আসা আরো চারটি ফেরি ওই চ্যানেলে প্রবেশের অপেক্ষায়। অপেক্ষমান মাঝারি আকৃতির ফেরিটি চ্যানেলে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বনলতা ফেরির চালকের আসনে থাকা তৃতীয় মাস্টার (হুইল সুকানি) মোকারম হোসেন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। একদিকে পিছনে তিনটি ফেরি, অপর দিকে বিপরী দিকে আরো তিন-চারটি ফেরি। আর চ্যানেলের পূর্ব দিকে মাটি খনন করার ড্রেজিং যন্ত্র এবং পশ্চিমে রয়েছে বালুর চর।

ফলে চরের সীমানা ঘেঁষে পানি কম থাকার পরও মার্কিং পয়েন্ট অতিক্রম করে বালু চরের দিকে ঢুকে পড়েন মাস্টার। এ সময় ফেরির ডকে (উপরে) থাকা যাত্রীদের নিচে নামতে বলেন তিন। এভাবে প্রায় আধাঘণ্টা চলার পর চ্যানেলটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয় ফেরিটি।

ফেরিটির চালক মোকারম হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এভাবে কি ফেরি চালানো যায় না। চ্যানেলের প্রস্ত এত কম যে পাশাপাশি দুটি বড় ফেরি অতিক্রম করতে গেলে একটির সাথে আরেকটির সংঘর্ষ লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়। দুই দিন আগে একবার দুটি ফেরির মধ্যে হালকা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য সবাই রক্ষা পান। বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটলে হতাহতের মতো ঘটনা ঘটতে পারতো। এই ফেরি চালক বলেন, এছাড়া এখন শীতকালীন সময় শুরু হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে রাতে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশার কারণে রাতের বেলায় এই চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল করা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়বে। জরুরী ভিত্তিতে চ্যানেলের প্রসস্থ্যতা আরো বাড়ানো দরকার।

বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বিআইডব্লিউটিএ এর খনন বিভাগ খননের কাজ করছে। কিন্তু ঘাটের কাছে চ্যানেলের প্রস্থ তুলনামূলক কম থাকায় প্রায়ই পাশাপাশি দুটি ফেরি যাতায়াত কালে সমস্যায় পড়তে হয়। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা পড়লে চলাচলে আরো সমস্যায় পড়তে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) খনন বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ হোসেন বলেন, আগে ২৪০ ফুট প্রস্থ করে চ্যানেল তৈরি করা হতো। বর্তমানে বাড়িয়ে ৩৬০ ফুট করা হয়েছে। এখন আর কোন সমস্যা নেই। একটি ফেরির চলাচলরের জন্য ১০ ফুট পানির প্রয়োজন হয়, তার উপড়ে আছে, তাই কোথাও কোন নব্য সংকট নেই। তিনি বলেন, সমস্যা হলো ওই চ্যানেলেই খনন যন্ত্র ও তার যন্ত্রাংশ থাকায় প্রস্থ কমে যাওয়ায় দুটি ফেরি একত্রে চলাচল করতে কিছুটা বিঘœ হচ্ছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

"