খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প

কাজ শুরুর আগেই মেয়াদ শেষের পথে

প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রসস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের পর সাড়ে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু করতে পারেনি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ফলে ছয় বছর মেয়াদী প্রকল্পের মেয়াদ আরো একবছর বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ। অনুমোদিত রাস্তা প্রসস্ত করতে গিয়ে রাস্তার পাশের স্থাপনা অপসারণ, মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দান ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়াল সড়ানো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় এই সময় ক্ষেপ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

কেডিএ সূত্রে জানা যায়, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রসস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয় ২০১৩ সালে। ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে লম্বায় ৩.৭৭৮ কিলোমিটার সড়ক প্রসস্তকরণের এ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ হবে। নির্ধারিত এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনে ২০২০ সাল নাগাদ সময় চাওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা ও বাঁধাগুলো অপসারণ করতে কেসিসি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের সমন্বয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের ত্রি-পক্ষীয় সভা মেয়রের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অধিন রূপসা চৌরাস্তা মোড় থেকে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা) পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. ইকবাল হোসেন, কেসিসি প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম, কেডিএ চীফ ইঞ্জিনিয়ার সাবিরুল আলম, কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মো. মশিউজ্জামান খান, সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন, কেডিএ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জিহাদ, সিনিয়র বৈষয়িক কর্মকর্তা জিএম মাসুদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন।

সভা সম্পর্কে কেসিসির মেয়র আব্দুল খালেক বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রসস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে যেসব স্থাপনা পড়েছে সেসব স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা নিয়ে এ বৈঠক হয়। প্রায় একই তথ্য জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রসস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তবে কেডিএ চীফ ইঞ্জিনিয়ার সাবিরুল আলম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, শিগগিরই প্রকল্পের টেন্ডার আহবান করা হবে। কাজের সময় এসব স্থাপনায় যাতে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে তার জন্যই মেয়রকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সাথে সমন্বয়ের জন্য এ বৈঠকের আয়োজন। সব কিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসে এ প্রকল্পের কাজ শুর করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকল্পের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে কেডিএ চীফ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রসস্তকরণ প্রকল্প সড়কের দুই পাশে দুইশতাধিকক স্থাপনা রয়েছে। যা অধিগ্রহণ করা এবং তার অধিকাংশই উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে শিপইয়ার্ডের বাউন্ডারী ওয়াল, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কিছু বরাদ্দ দেওয়া স্থাপনা রয়েছে। যা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় বাঁধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। সড়কের মাঝে ডিভাইডার থাকবে। সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ, সড়কের উভয় পাশে থাকবে ড্রেন, ফুটপাত এবং ওয়াকওয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মো. মশিউজ্জামান খান বলেন, এ সড়ক করতে গিয়ে কেডিএ কিছু সমস্যায় পড়ে। তার মধ্যে স্থাপনা নির্মাণকারীদের ক্ষতিপূরণ, শিপইয়ার্ডের ওয়াল অপসারণসহ কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রসস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক ও কেডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন বলেন, এ সড়কের কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সব মিলিয়ে প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

"