হুমকির মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ

নাঙ্গলকোটে শত বছরের দিঘি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ama ami

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী গোত্রশাল সরকারি দিঘি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। প্রায় দুইশ বছরের পুরনো এ খাল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি মহল। ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথ, বিদ্যুৎ লাইনসহ দিঘীর আশে-পাশের বসবাসরত শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর।

দীর্ঘদিন ধরে দিঘি থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসন জানার পরও রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই দিঘীর পাশ দিয়ে ১৮৩৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথ নির্মিত হয়। ওই রেল পথের পাশ ঘেঁষে দিঘীর পূর্বাংশে ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে প্রায় এক মাস ধরে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানিয়দের দাবি এসব বালু পাশের গোত্রশাল, মাদ্রা ও কেন্দ্রাসহ কয়েকটি গ্রামে বিক্রি এবং বিভিন্ন পুকুর ভরাট করা হচ্ছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। দিঘী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ এবং কুমিল্লা জাঙ্গালিয়া থেকে ৩৩ হাজার কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন ফেনী গ্রীডে সংযুক্ত বিদ্যুৎ লাইনটি। ইতোপূর্বে এ গ্রীড লাইনটি দিঘীতে হেলে পড়লে ওই এলাকায় প্রায় এক মাস বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল।

এদিকে, দিঘির ভিতরে এবং চার পাড়ে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবার অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীমহল একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে অভিযোগ করতে পারছি না। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, ঢাকা-চট্রগ্রাম রেল পথ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি পূর্বাঞ্চল রেল বিভাগকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

"