হবিগঞ্জে কমেছে শুঁটকির উৎপাদন

সরকারি সহযোগিতা চান মৎস্যজীবীরা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ

হাওড়-বাওড়ে বেষ্টিত হবিগঞ্জ জেলা। মাছের প্রাচুর্যে খ্যাতি রয়েছে হবিগঞ্জের। হাওড়াঞ্চল হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ গ্রামীণ সমাজের মানুষের প্রধান কাজ মাছ শিকার বা চাষ। কেউ লিজ নিয়ে, কেউবা নিজের পুপুুরে মাছ চাষ করছেন। আর এ মাছ হাওর থেকে ধরে বা কিনে এনে উৎপাদন করছেন শুঁটকী। কিন্তু এ বছর মাছ মেলেনি আগের মতো। উদ্বৃত্ত মাছ না থাকায় নিম্নমূখী হচ্ছে শুঁটকির উৎপাদন। সেই সাথে পুঁজির অভাব ও লাভের মুখ না দেখায় আগ্রহ হারাচ্ছেন উৎপাদনকারীরা। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরকারী পৃষ্টপোষকতা চান স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

জানা যায়, জেলার বানিয়াচঙ্গ, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর উপজেলাসহ বেশ কিছু উপজেলার প্রায় দুই হাজারেরও অধিক পরিবার শুঁটকি ব্যবসার সাথে জড়িত। এখানকার শুঁটকিতে কোন রাসায়নিকের ব্যবহার না হওয়ায় এর স্বাদ ও কদর বেশি। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ না পাওয়ায় শুঁটকি উৎপাদনকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বর্ষা মৌসুমে পরিমানমত পানি না হওয়া ও নদী জলাশয় ভরাট হওয়াই এর মুল কারণ। তাই তারা এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে নদী ও জলাশয়গুলো পুণঃখনন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

জেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর জেলায় শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১০০ মেট্রিক টন। আর এবার তা নেমে এসেছে অর্ধেকে। এমতাবস্থায় উৎপাদনকারীদের লোকসানের পরিমাণ বাড়িয়েছে ঋণ। এখন মহাজনদের দেনা শোধ নিয়েই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ এসব মানুষ। এ অবস্থায় সরকারি পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের দাবি তাদের।

সরেজমিনে গিয়ে ওইসব এলাকায় দেখা যায়, এখন চলছে শুঁটকির মৌসুম। সারি সারি মাচায় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আজিমনগর গ্রামের শুঁটকি উৎপাদনকারী নাছিমা বেগম জানান, ‘হাওর, খাল, বিল থেকে মাছ সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর মাছগুলো কেটে লবণ মাখানো হয়। পরে মাচা বানিয়ে সেখানে শুকানো হয়। দুই তিন দিন ধরে শুকানোর পর শুঁটকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এই শুঁটকি তৈরির আয় দিয়ে আমাদের সংসার চলে। এবছর পর্যাপ্ত পরিমান মাছ না পাওয়ার ফলে আমরা হতাশ। আমারা কিভাবে আমাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চালাব তা বুঝে উঠতে পারছি না। তাই আমরা সরকারের সহযোগীতা প্রার্থনা করছি।

শুটকি ব্যবসায়ী তালিব হোসেন জানান, ‘আমরা আমাদের দাদার আমল থেকে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছি। আমার এখানে প্রায় অর্ধশতাধিক দরিদ্র মহিলা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত পরিমান মাছ না পাওয়ার ফলে শুঁটকি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এমতাবস্থায় এ ব্যবসা এখন আমাদের জন্য বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

ব্যবসায়ী মুখলেছুর রহমান জানান, আমরা মহাজনের কাছ থেকে ঝণ নিয়ে শুঁটকি ব্যবসা করছি। এ বছর ব্যবসা ভাল না হওয়ায় আমি কিভাবে ঝণ পরিশোধ করব বুঝে উঠতে পারছি না। সরকার যদি আমাদের সহযোগীতা করত তা হলে কিছু হলেও আমাদের জন্য ভাল হত।

একই সাথে এ শিল্পটিতে বাঁচিয়ে রাখতে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. শাহজাদা খসরু বলেন, শুঁটকি উৎপাদনকারীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাছের বংশবৃদ্ধিতে শুঁটকি ব্যবসায়ীসহ সকলকে সচেতন হতে হবে। এছাড়াও সহজশর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও মাছের অভয়াশ্রম করলে আবারও শুটঁকি শিল্পে সুদিন ফিরে আসতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

 

"