রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা

উচ্ছেদের পর ফের দখল

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
ama ami

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে অফিসার্স কলোনির ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকাসহ রেলের জমিতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়ার পর পুনরায় তা দখল করার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাযোসে রেল কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান ভেস্তে যাচ্ছে।

রেল সূত্র মতে, সৈয়দপুর রেল বিভাগের রয়েছে প্রায় ৮৫০ একর সম্পত্তি। এসব সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৩০০ একর সম্পত্তিতে স্থাপিত রেল কারখানাটি ১১০ একর জমির মধ্যে রয়েছে। বাকি জমিতে রয়েছে আবাসিক ভবন, কোয়ার্টার ও দাপ্তরিক কার্যালয়। ওই সম্পত্তির ৫৫০ একর জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রেল লাইন সংলগ্ন রেলের সব খালি জায়গা দখল করে দোকান পাট নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন অবৈধ ব্যবসায়ীরা।

নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেল বিভাগ ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে শহরের ডাক বাংলা সংলগ্ন রেলের জমিতে মোক্তারুল নামের একজনের নির্মিত ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেয়। ওই সময় উচ্ছেদ হওয়া জমিতে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ না করার নিদের্শনা দেয় রেল বিভাগ। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগে মোক্তারুল নামের ওই দখলদার তার গুড়িয়ে দেওয়া অবৈধ বাড়ির স্থানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করেন।

স্থানীয়রা জানায়, রেল বিভাগ বিভিন্ন সময়ে রেলের জমিতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও স্থানীয় রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রাতারাতি সেগুলো আবার দখলে চলে যায়। অলিউর রহমান রতন নামের এক ব্যক্তি জানান, রেলের জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ওই জমির সুষ্ঠু ব্যববহার নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কোষাগারে বড় অঙ্কের রাজস্ব জমা হবে। যা দিয়ে সৈয়দপুরবাসীকে সাজানো গোছানো একটি মডেল শহর উপহার দেওয়া সম্ভব।

স্থানীয় রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের জমিতে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। রেল বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা না পেলে কিছুই করা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

"