বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

অযত্ন-অবহেলায় বধ্যভূমি

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ইসমাইল রিফাত, বেরোবি

স্বাধীনতার ৪৭ বছর কেটে গেলেও এখনও চিহ্নিত হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের দমদমায় অবস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বধ্যভূমিটি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার আট বছর পার হয়ে গেলেও এখনো অরক্ষিত অবস্থায়ই পড়ে আছে বধ্যভূমিটি। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বধ্যভূমিটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় আট বছরেও নির্ধারণ হয়নি সীমানা প্রাচীর। ফলে বধ্যভূমির অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বধ্যভূমিটি অরক্ষিত থাকার পর ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারমাইকেল কলেজ শিক্ষক পরিষদ সেখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকায় এবং সীমানা প্রাচীর না থাকায় সেখানে ব্যবসায়ীরা কাঠের গুড়ি রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছে বহুদিন থেকে। এমনকি সেখানে গরু-ছাগল অবাধে বিচরণ করছে। এতে একদিকে যেমন পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে বধ্যভূমির জায়গা প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের অধিনে চলে যাচ্ছে। বধ্যভূমির জায়গায় ব্যবসা করছে মিন্টুসহ সাতজন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বধ্যভূমির জায়গায় গাছের গুড়ি রেখে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে কখনো কেউ বাঁধা দেয়নি বলে জানান তারা। বছরে দুইএকবার ফুল দেওয়ার সামনের জায়গাটুকু পরিস্কার করে দেয়ার কথা বলে হয় এসব ব্যবসায়ীদের। রংপুর মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় সূত্র জানায়, রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের দমদমা ব্রিজের কাছে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষকসহ শত শত নারী-পুরুষকে ধরে এনে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় বেরোবি প্রশাসন। প্রথমদিকে কিছু মাটি কেটে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও এখন পর্যন্ত বদ্ধভূমিটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। নির্মাণ করা হয়নি সীমানা প্রাচীরও। সর্বশেষ গত বছরের ১৪ জুন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

"