দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গোলাম মোস্তফা খান, দাকোপ, খুলনা
ama ami

খুলনার দাকোপ উপজেলা সদরসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার এলাকায় সরকারি জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় চলাচলের প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট দিনে দিনে সংকীর্ণ হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রভাবশালীমহল, বড় বড় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা দাকোপ সদর চালনাসহ বাজুয়া বাজার, কালি নগর বাজার, নলিয়ান বাজার, কামনি বাসিয়া বাজার, বানি শান্তা বাজার, দাকোপ সাহেরাবাদ বাজার, খুটাখালি বাজার ও পোদ্দার গনজ বাজারের সরকারি জায়গা বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে দোকানপাট ইচ্ছেমতো সম্প্রসারন করছেন। পাকা দোকানের পাশাপাশি বাড়িঘর নির্মাণ করে রিতীমতো বসবাস করছেন।

এমনিভাবে ফ্রিষ্টাইলে দখল চলাকালে বিগত ১/১১ এর সময় তত্বাবধায়ক সরকার দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তৎকালীন সরকার অবৈধভাবে পানি উন্নযন বোর্ডের সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ করা পাঁকা ঘরবাড়ির অধিকাংশই অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দখলদাররা আবারো সরকারি জমি দখলের উৎসবে মেতে উঠে।

জানা গেছে, উপজেলা সদরে সরকারি জমিতে থাকা দোকানপাট ভেংগে দেওয়ায় বেশ চওড়া হয়েছিলো যাতায়াতের রাস্তা। ৪/৫ বছর মানুষজন, গাড়িঘোড়া সহজে চলাচল করতে পারতো। কিন্তু আবার প্রতিটি দোকানের সম্মুখে ৪/৫ হাত রাস্তাদখল করে দোকানপাট বৃদ্ধি করায় রাস্তা আবারও দিনে দিনে সরু হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে উপজেলার সকল হাটবাজার এলাকায় দখলের প্রতিযোগিতা চলছে কয়েক বছর যাবৎ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় পাকা ভবন নিষিদ্ধ থাকলেও দেদারছে চলছে বহুতল পাঁকা ভবন নির্মাণের কাজ। নেই কোন বাঁধা। যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৭ সালে দাকোপ উপজেলায় দায়িত্বে থাকা ইউএনও ও তার কতিপয় কর্মচারিদের মাধ্যমে চুক্তির মাধমে উপজেলাজুড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখলের যে হিড়িকি পড়েছিল তা এখনও বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে কার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে চালনাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা গৌতম সাহার সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা চেষ্টা করি কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কারনে অধিকাংশক্ষেত্রে তা পারিনা। সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসি।

"