নির্বাচনী আমেজেও পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মহসীন শেখ, কক্সবাজার
ama ami

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। অপরদিকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে পর্যটন মৌসুম। গত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে থাকা অস্থির পরিস্থিতির কারনে ওই সময়ের ভরা মৌসুমেও পর্যটকের দেখা মেলেনি কক্সবাজারে। ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুরা উপভোগ করতে পারেনি কক্সবাজারের সৌন্দর্য। তবে এবার নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে যথারীতি পর্যটক আসতে শুরু করেছে কক্সবাজারে।

বলতে গেলে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার কারণে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী অস্থিরতার প্রভাব পড়েনি পর্যটন খাতে। মৌসুম অনুযায়ী যথারীতি আশানুরূপ পর্যটক এসে নিরাপদে ভ্রমন করছে। পর্যটকেরা নিরাপদে ভ্রমন করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরাও সন্তুষ্ট। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। ফলে মহাআনন্দে পর্যটক সেবায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পর্যটকসেবী প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে যে পরিমান পর্যটকের সমাগম হয় এবারেও ঠিক তাই হয়েছে। শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেল, কটেজ আর গেস্ট হাউসগুলো ভরে গেছে পর্যটকে। কক্সবাজারে অবস্থিত প্রায় ৫০০ এর কাছাকাছি হোটেল-মোটেল, কটেজ-গেস্ট হাউসে প্রায় দেড় লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করছে। আগত পর্যটকরা সমুদ্রের বালিয়াড়িসহ ভ্রমন করছেন সেন্টমার্টিন, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, সোনাদিয়া, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।

চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে স্বপরিবারে ভ্রমনে আসা বেলাল উদ্দিন জানান, কক্সবাজারে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হয়েছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে নিরাপদে ভ্রমন উপভোগ করতে পারছি। রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর থেকে বেড়াতে আসা বাবু নামে আরেক পর্যটক জানান, তিনি গত নির্বাচনেও কক্সবাজার বেড়াতে এসে নির্বাচনী নানা ঝামেলার সম্মুখিন হয়েছেন। তবে এ বছর নির্বাচনী অস্তিরতা না থাকায় নিরাপদে ভ্রমন করতে পারছেন। সমুদ্র সৈকতে সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত ‘ফুড ভেলেজ’ নামের রেস্তোরার মালিক কিবরিয়াহ খান জানান, গত নির্বাচনের সময়ের তুলনায় এবার পর্যটকের আনাগোনা বেশি। যার ফলে গতবারের তুলনায় এবার ব্যবসাও ভাল হচ্ছে।

কলাতলী সৈকতে অবস্থিত ‘স্যান্ডি বীচ’ রেস্তোরার মালিক আব্দুর রহমান জনান, তিনি দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী। গত কয়েক বছর ধরে তার ব্যবসা ভাল হলেও গতবারের নির্বাচনে অস্থির পরিস্থিতির কারনে ব্যবসা ভাল ছিলনা। তিনি আশা করছেন ওই ধরনের পরিস্থিতিতে আর কখনও পড়তে হবেনা।

কক্সবাজার কটেজ মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহম্মদ নোবেল জানান, গত নির্বাচনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারনে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত। ফলে শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছে ব্যবসায়ীরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর, থার্টি ফাস্ট নাইট, ২১ ফেব্রুয়ারীসহ বড় ছুটিগুলোতে ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে পর্যটকের সেবা দিতে পারবেন।

ট্যুর অপারেটর কক্সবাজারের (ট্যুয়াক) চেয়ারম্যান এম.এ. বাদল বলেন, নির্বাচনী অস্তিরতা না থাকায় চলতি পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে। এতে কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মূখে হাসি ফুটেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে পর্যটকরা।

বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ একসাথে কাজ করছে। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জোরদার রয়েছে। প্রতিবছরের মত পর্যটকের চাপ বাড়লেই পর্যটন জোনসহ পর্যটকের সমাগম স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এবারেও তাই করা হয়েছে। প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনের প্রভাব যেন কোনভাবে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ভ্রমনে ব্যাঘাত না ঘটায়।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, নির্বাচন এবং পর্যটকের আগমন এই দুইটি বিষয় মাথায় রেখেই জেলায় নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে পুরো বীচ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে। পর্যটকদের স্বার্থে ভ্রমণের স্থানগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে।

"