সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাত

হাজীগঞ্জে সরকারি গাছ কেটে নিচ্ছেন স্থানীয়রা

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক সম্প্রসারণের অযুহাতে শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নে গাছ লুটের এ অভিযোগ পাওয়া যায়। সড়কের পাশে জমি যার, গাছ তার বলে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের পূর্বে এবং কাজ চলাবস্থায় স্থানীয়রা গাছগুলো কেটে নেন। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর বাজার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের সড়ক মেনাপুর-ডিঙ্গাবাঙ্গা ও মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মুকুন্দসার গ্রামের পাকাসড়ক পর্যন্ত গ্রামীণ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এ অযুহাতে গত নভেম্বর মাস থেকে রাস্তার দুই পাশে অবস্থিত জমির মালিকগণ গাছ কাটতে শুরু করেন। যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। যদিও বর্তমানে সড়কের পাশে গাছ নেই বললেই চলে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। আর এ সড়কের পাশে গাছ কাটছেন স্থানীয় জমির মালিকগণ। অপরদিকে বিদ্যালয়ের পূর্ব-উত্তর দিক থেকে শুরু করে মুকুন্দসার পাকা সড়ক পর্যন্ত প্রায় শতাধিক গাছ কেটে নেয়া হয়েছে এবং কয়েকটি কাটা গাছ রাস্তার পাশে ফেলে রাখতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মধ্যে বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করে বলেন, সড়ক সম্প্রসারণ কাজ শুরুর পূর্বে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা বলেছেন, যার যার গাছ, কেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই সড়কের পাশের জমির মালিকগণ গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে গাছ কেটে নিয়ে গেছেন এবং এখনো অনেকে গাছ কাটছেন।

এ দিকে মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে। রাস্তার পাশে জমির মালিক স্বপন নিজেদের গাছ দাবী করে ছোট-বড় ৮টি গাছ বিক্রি করে দেন। অপর দিকে গাছগুলো বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বলে দাবী করেন ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়ের সাবেক বিদ্যোৎসাহী সদস্য লিটন প্রধানীয়া।

বিদ্যালয়ের গাছ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাছগুলো বিদ্যালয়ের আঙ্গিনার সঙ্গে রাস্তার পাশে রয়েছে। যেহেতু রাস্তা সরকারের, সেহেতু গাছও সরকারের। তাই জমির মালিককে গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি।

ইউপি সদস্য লিটন প্রধানীয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, যারা গাছ কাটছে, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, যদি স্কুলের সম্পত্তিতে গাছ পড়ে, তাহলে গাছ বিক্রির দ্বিগুন টাকা স্কুলের ফান্ডে জমা দিবে।

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই এলাকায় বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন নেই। তিনি বলেন, সড়কটি যে বিভাগের, সে বিভাগ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।

ইউএনও বৈশাখী বড়–য়া জানান, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"