ভাস্কর্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে চান আলমগীর

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

ভাস্কর্যের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে চান বগুড়ার আলমগীর হোসাইন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য বানিয়ে চলেছেন এ শিল্পী। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতেই তার এই প্রচেষ্ঠা। ইতিপূর্বে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। বর্তমানে ‘৭১ বগুড়া’ নামে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন করছেন তিনি। বগুড়ার নতুন প্রজন্মকে উৎসর্গ করতে চান এটি। ১৬ ডিসেম্বর ‘৭১ বগুড়া’ ভাস্কর্যটি তিনি শহরের প্রাণকেন্দ্র নবাববাড়ী মোড়ে স্থাপন করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ পৌর মেয়রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

শিল্পী আলমগীর জানান, প্রায় দু’মাস ধরে বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে তিনি ভাস্কর্যটি নির্মাণ করে চলেছেন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালির জন্য বিজয় যখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে দেখা দেয়, ঠিক সে মুহূর্তকে তিনি এ ভাস্কর্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এতে বিভিন্ন বয়সী পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছে একজন নারী, ছাত্র, যুবক, কৃষক ও কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল তাই এখানে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শিল্পী আরও বলেন, যেসব মুক্তিযোদ্ধা অখ্যাত, যাদের কেউ চেনেনা কিংবা কেউ যাদের খোঁজ রাখেনি তাদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে অর্জিত বিজয়কে উপলব্ধি করাতেই কৃষক মুক্তিযোদ্ধার হাতে শান্তির পায়রা উড়ানো হয়েছে। এছাড়াও কিশোর মুক্তিযোদ্ধার হাতে থাকবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

শিল্পী আলমগীর জানান, ১৯৭১ সালে তার জন্ম। মায়ের কাছে মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের গল্প শুনে শুনে তিনি বড় হয়েছেন। দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছে তার ছোটবেলা থেকেই। তাই ভাস্কর্য তেরিতে তিনি সব সময়ই মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় উপজীব্য করার চেষ্টা করেন। তার ধারণা, এতে হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কিছুটা ঋণ তিনি শোধ করতে পারবেন। এছাড়াও শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ভাস্কর্য স্থাপন করা গেলে তা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবাবে। এ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের কাজের বিকল্প নেই।

শিল্পী জানালেন, দীর্ঘ দু’মাসে রাস্তার পাশে তার ভাস্কর্য নির্মাণ দেখছেনে অসংখ্য কৌতুহলী মানুষ। তাদের কেউ আবার ভাস্কর্যটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে ৩ লাখ টাকা দামও করেছেন। তিনি বলছেন, এটি বিক্রির জন্য নয়। এটি বগুড়াবাসীর জন্য, নতুন প্রজন্মের জন্য।

"