রংপুর অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে।’ কবি রজনীকান্ত সেনের বিখ্যাত কবিতার নায়ক বাবুই পাখি আজ রংপুর অঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে গ্রাম বাংলার এই পাখি। এক সময় গ্রাম বাংলার গাছে গাছে বিশেষ করে তাল, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, বরই, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছে বাবুই পাখির বাসা শোভা পেতো। একমাত্র বাবুই পাখি ছাড়া আর অন্য কোন পাখির পক্ষে এমন মনোরম বাসা তৈরি করা সম্ভব নয়। পুরুষ বাবুইতো রীতিমতো আদর্শ প্রেমিক। কারণ, সে তার সঙ্গীর মন জয় করতেই কঠোর পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তিলে তিলে নির্মাণ করে এক একটি বাসা। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গী খুঁজতে। দৃষ্টিনন্দন সেই বাসা বাতাসে নাগরদোলার মতো দোল খেতো। বাবুই পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন ঠিক তেমনি মজবুতও। শক্ত বুননের এ বাসাটি সহজে টেনে ছেড়া খুব কঠিন। বাতাস কিংবা ঝড়ো হাওয়াতেও টিকে থাকতো সেই বাসা। কিন্তু নিপুন বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি রংপুর অঞ্চলে খুব একটা দেখা যায় না। গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখির আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন গাছ ক্রমাগত কেটে ফেলা, জমিতে কীটনাশক ব্যবহার এবং প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিকারি আবাসস্থল থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি। এতে কমছে তাদের সংখ্যা।

স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, এক সময় জেলার কমবেশি সব অঞ্চলেই বাবুই পাখির বাসা দেখা মিলতো। কিন্তু বর্তমানে বাসাতো দূরের কথা এই পাখির দেখা মেলায় ভার।

আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যে লালিত বাবুই পাখিদের টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের অভয়াশ্রম তৈরি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

"