মাতামুহুরীতে সেতু বদলে দিতে পারে হাজারো মানুষের জীবনচিত্র

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নাজমুল সাঈদ, চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর উপকন্ঠে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের তরছঘাট পয়েন্টে একটি স্থায়ী পাকাঁ সেতু বদলে দিতে পারে হাজারো মানুষের জীবনচিত্র। স্বাধীনতাত্তোর ৪৬ বছর কেটে যাওয়ার পরও অত্র অঞ্চলের জনগণের ভাগ্যে জোটেনি একটি স্থায়ী ব্রিজ। ইতোপুর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বস্থ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম তরছঘাট এলাকায় একটি বেইলী সেতু অথবা স্থায়ী একটি পাঁকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি। ফলে অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের শুষ্ক মৌসুমের ছয়মাস কাঠের সাঁকো দিয়ে ও বর্ষা মৌসুমে ছয়মাস নৌকায় পারাপার করে আসছে এ জনপদের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডস্থ তরছঘাট এলাকাটি ছিল উপজেলার এক সময়ের জনবহুল প্রধান বাণিজ্যিক সেন্টার। ওই এলাকা থেকে নদীর ওপারে অবিভক্ত বিএমচর, কোনাখালী, সাহারবিল, পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে সবধরণের খাদ্য পণ্য নিয়ে যেত ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ওই এলাকার জনসাধারণ চলাচল করতো নৌকায় করে।

সময়ের ব্যবধানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সবকিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু উপকূলের চারটি ইউনিয়নের আমজনতার পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি ব্রিজের কারণে পিছিয়ে রয়েছে। পূর্ব বড় ভেওলার এগার গ্রামের লোকজন কখনও নৌকা, বাশেঁর সাঁকো এবং কাঠের সেতু দিয়ে নদী পারাপার করে আসছে। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি পেলে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আসা প্রায় বন্ধ করে দিতে হয়। উপকূলের চারটি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি মাতামুহুরী নদীর তরছঘাট এলাকায় একটি পাকা সেতু নির্মাণ। সেতুর কারণে সঠিক মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ এলাকার কৃষকদের। ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে উপজেলা সদর যাওয়া-আসা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কৃষিজাত পণ্য বিক্রয়ের জন্য বাজারে যাওয়া-আসা করতে এগার গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওই কাঠের সাঁকোটিই একমাত্র ভরসা। বর্তমানে ওই সব গ্রামের মানুষ ৩ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে বাটাখালী সেতু পার হয়ে উপজেলা সদরে আসতে হয়। পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা উচমান গণি শাহিন বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল মাতামুহুরী নদীর তরছঘাটা পয়েন্টে একটি পাকা সেতু। আমাদের পূর্ব পুরষ থেকে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা তরছঘাট-পূর্ব বড় ভেওলা ঘাট দিয়ে নৌকা কিংবা কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার করে আসছে। একটি সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত কৃষকরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করেও পরিবহন ও বাজারজাতকরণের জন্য তারা সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল বলেন, তার ইউনিয়নসহ উপকূলের চারটি ইউনিয়ন উপজেলার কৃষি উৎপাদন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। বেশিরভাগ কৃষক তাদের কৃষিজাত নানা ধরণের পণ্য ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শুধুমাত্র সেতুর অভাবে। এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের কষ্ট লাঘবে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বি.এম.চর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল কবির জানান, যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে উপজেলা সদর থেকে ওই এলাকার মানুষ অনেকটা বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ লোকজনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেক রোগী বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুর জীবন অনেক সময় বিপন্ন হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর উদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, মাতামুহুরী নদীর তরছঘাট পয়েন্টে একটি বেহলী সেতু দেওয়ার ব্যাপারে সড়ক বিভাগের কাছে অনেক আগে থেকে প্রস্তাবনা রয়েছে। জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যেগ নেওয়া হবে।

"