লালমনিরহাটে বিলুপ্তির পথে গরুর হাল

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট

লালমনিরহাট জেলায় এখন আগের মতো কৃষকদের কাঁধে লাঙ্গল-জোয়াল ও জোড়া গরুর দড়ি হাতে নিয়ে মাঠে যেতে দেখা যায় না। কৃষি জমিতে চোখ গেলেই দেখা যায় বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন নতুন যন্ত্র দিয়ে চাষাবাদ করার দৃশ্য। হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী হাল চাষ। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে চাষের পরিবর্তনে এখন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষকেরা গবাদিপশু পালন করতেন হাল চাষের জন্য। আবার কিছু মানুষ নিজের জমিজমা না থাকলেও বিঘাপ্রতি চুক্তি করে অন্যের জমি চাষাবাদ করে নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণ করতেন।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান জানান, গরু দিয়ে জমি চাষ করাই আমার পেশা। তবে দেশ ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরাও ডিজিটাল হয়ে গেছে। তারা এখন আর গরুর হাল দিয়ে জমি চাষাবাদ করেন না।

তিনি আরো বলেন, গরু দিয়ে হাল চাষের অনেক উপকারিতা ছিল। লাঙ্গলের ফলা মাটির অনেক গভীরে যায়। ফলে জমির মাটি ভালো আলগা ও নরম হয়। জমিতে ঘাসও কম হয়। হাল চাষের সময় গরুর গোবর জমিতে মিশে প্রাকৃতিক জৈব সার তৈরি করত। এতে জমিতে বাড়তি রাসায়নিক সার ব্যবহার না করলেও হতো। ফলনও ভালো হতো। এভাবে লাঙ্গল দিয়ে প্রতিদিন ৪৪ শতাংশ জমি চাষ করা যেতো। কিন্তু বর্তমানে নতুন নতুন মেশিনের সাহায্যে কৃষকরা কম সময়ে ও কম খরচে জমি চাষাবাদ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রয়োজন হলেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই এখন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক সব যন্ত্রপাতি হাতের নাগালেই পাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকেরা এখন গবাদিপশু পালন না করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। এতে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কৃষিতে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন। চলছে বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, বর্তমানে কৃষিতে আমুল পরিবর্তন এসেছে। কৃষি কাজেও এসেছে বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। যে কৃষি জমিতে বছরে দুখন্দের আবাদ করা হতো সেই জমিতে এখন তিন খন্দেও আবাদ করা হয়। সময়ের প্রয়োজনে মানুষ এখন লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষের পরিবর্তে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছে। এখন আর আগের সেই গরু দিয়ে হাল চাষ চোখে পড়ে না।

"