গোবিন্দগঞ্জে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন নারীরা

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শামীম রেজা ডাফরুল, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

শীত উপলক্ষ্যে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অনেক পল্লীতে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। আর এ কুমড়ো বড়ি বাজারে বিক্রি করে অনেক নারী অভাব অনটনের সংসারে কিছুটা হলেও বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছে। উপজেলার তালুককানুপুর, রাখালবুরুজ, কামদিয়া কামারদহ, নাকাই, মহিমাগঞ্জ, কোচারশহরসহ প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নেই শীত মৌসুমে এ কুমড়ো বড়ি তৈরি হয়।

গোবিন্দগঞ্জ শহর থেকে ১০ কি.মি. দূরে কাটাখালী ব্রিজের পশ্চিম পাশে শাকপালা গ্রাম। এই গ্রামের সাহা পাড়ায় ১৫টি হিন্দু পরিবারের বাস। তাদের মধ্যে হিন্দু পরিবারের ৮/১০টি পরিবারের নারীরা প্রতি বছর বাড়তি আয়ের জন্য শীত মৌসুুম শুরুর সাথে সাথে কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তারা কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে ওই পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নারীরা খোলা মাঠের মধ্যে চাটাইয়ের উপর পাতলা কাপড় বিছিয়ে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন।

সাহাপাড়ার চম্পা রানীর (৩৫) সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্বামী বিমল চন্দ্র সাহা একজন ভ্যান চালক। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে কোনরকমে সংসার চলে। বাড়তি আয়ের জন্যই চম্পা রানী শীত মৌসুমে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন।

একই পাড়ার চন্দন সাহার স্ত্রী রেখা রানী (৫০) বলেন, তিনি প্রায় ২০/২৫ বছর হলো এ কুমড়ো বড়ি তৈরি করছেন। প্রতিদিন ৪/৫ কেজি মাসকলাইয়ের কুমড়ো বড়ি তিনি তৈরি করেন। এতে তার সংসারের জন্য বাড়তি আয় হচ্ছে। এই পাড়ার রতœা রানী (৪০), অনিতা রানীসহ (৩৫) আরও ১০/১২ জন গৃহিনী প্রতি শীত মৌসুমে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন।

কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত কয়েকজন নারী জানান, সন্ধ্যায় মাসকলাই ভিজিয়ে রেখে কালো খোসা ছাড়ার পর সকালে সেগুলোর সাথে অন্যান্য উপকরন মিশিয়ে পাটায় পিশে পেষ্ট করে ছোট ছোট বড়ি তৈরি করতে হয়। চাটাইয়ের উপর পাতলা কাপড় বিছিয়ে কড়া রোদে শুকাতে দিতে হয় সে বড়ি। ১০/১২ ঘন্টা রোদে শুকানোর পর বড়িগুলো বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরিতে খরচ পড়ে ১০০-১৩০ টাকা। বাজারে বিক্রি করা হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। কুমড়ো বড়ি বাজারে ২৪০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হয়ে থাকে। একজন নারী প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করে থাকেন। পৌরশহরের পুরাতন গোবিন্দগঞ্জের সবিতা রানী, কল্পনা, ভবানী রানী বলেন, সংসারের যাবতীয় কাজ করার ফাঁকে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি আয় করা যায়। গোবিন্দগঞ্জের তালুককানুপুর, রাখালবুরুজ, কামদিয়া কামারদহ, নাকাই, মহিমাগঞ্জ, কোচারশহরসহ প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নেই শীত মৌসুমে এ কুমড়ো বড়ি তৈরি হয়।

"