নবীগঞ্জে মিড ডে মিলে সফলতা বেড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শাহ সুলতান আহমেদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিল চালু করায় ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। এ পদ্ধতিতে কমেছে পুষ্টিহীনতা, বিদ্যালয়গুলোতে বেড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। এসব কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্র্থী ও অভিভাবকরা। যেসব বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়নি সেসব বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। জানা গেছে, শিক্ষার মানউন্নয়ন ও পুষ্টিহীনতা রোধে বিগত ২০১৬ সাল থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বড় সাকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়। তৎকালিন জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় নবীগঞ্জ উপজেলার ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির চিত্র পাল্টে গেছে। কমেছে ঝরে পড়ার হার। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কমেছে পুষ্ঠিহীনতার প্রবণতা। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান বাড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।

অভিভাবক ডা. কিরণ সুত্রধর জানান, সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল না তেমন। কিন্তু স্কুলে এখন মিড-ডে মিল চালু হওয়ায় প্রতিদিন সন্তানরা স্কুলে যাচ্ছে।

সাকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা অজন্তা বণিক বলেন, মিড-ডে মিল চালুর পূর্বে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। টিফিনের পরে উপস্থিতি আরো কমে যেতো। এখন সব শ্রেণিতেই ৯০-৯৫ ভাগের উপর শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফারহানা আক্তার জানায়, এখন মিড-ডে মিল সাথে নিয়ে আসি। টিফিনের সময় সবাই একসাথে বসে খাই। ভালো লাগে। তাই স্কুল ফাঁকি দিতে আর ভালো লাগে না।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী উদিত ভাস্কর পাল তমাল জানায়, স্কুল থেকে তার বাড়ি অনেক দূরে। আগে টিফিনের সময় বাড়িতে খেতে গিয়ে আর স্কুলে আসতো না। মিড-ডে মিল চালু হওয়ার পর স্কুলে খাবার খেয়ে এখন নিশ্চিন্তে পড়ালেখা করতে পারছে। নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক প্রধান শিক্ষক রুবেল মিয়া জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং পুষ্টিহীনতা রোধ হয়েছে। ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রঞ্চনন কুমার সানা বলেন, উপজেলার ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনযোগী হয়েছে।

"