খাল ভরাটের নামে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনসাধারণ

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

খালেকুজ্জামান পান্নু, পাবনা

পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় ঢাকা কোচ টার্মিনাল ও পৌর মার্কেটের সামনে সড়কের পাশে পৌরসভার খালে মাটি ভরাটের নামে পঁচা ময়লার স্তুপ করা হচ্ছে। বাতাসে ময়লার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। এমনটিই অভিযোগ করছেন পৌর মার্কেটের দোকান মালিক, মোটর মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দরা। অভিযোগ রয়েছে, পাশ্ববর্তী দারুল আমান ট্রাস্টের ইসলামিয়া মাদরাসা ও মুসলিম এইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও। তারা এখানকার ময়লার স্তুপ দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে জানা যায়, পাবনা শহরের ঢাকা কোচ টার্মিনাল ও পৌর মার্কেটের সামনে সড়কের পাশে জায়গা ভরাটের নামে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ময়লা এনে সড়কের পাশে স্তুপ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। সেখানে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে চলতে গেলে নাকে রুমাল দিয়েও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না চলাচলকারী জনসাধারণ। এদিকে, ময়লার স্তুপের কারনে সৃষ্ট দুর্গন্ধে পৌর মার্কেটে কমে গেছে কাস্টমারের সংখ্যা। এতে লোকসানের মূখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা বলে দাবি করেন তারা।

পৌর মার্কেটের লক্ষী মিটান্ন ভান্ডারের ম্যানেজার শ্রী দীপ্ত কুমার ঘোষ জানান, এখানে ময়লা ফেলায় চরম দুর্গন্ধে কোন কাস্টমার দোকানে আসছে না। ব্যবসা বাণিজ্য নেই বললেই চলে। আমাদের ব্যবসা লোকসানে যাচ্ছে। এছাড়া ওই খালের পূর্বপার্শ্বে দারুল আমান ট্রাস্টের ইসলামিয়া মাদরাসা, ইসলামিয়া কলেজ, আল আমানা মেস, এতিম খানা, হাফিজিয়া মাদরাসা, মসজিদ, মারুফ চক্ষু হাসপাতাল, মুসলিম এইড হাসাপাতালসহ প্রায় ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অধ্যয়নরত হাজার হাজার শিক্ষার্থী পঁচা দুর্গন্ধময় অবস্থায় দিন যাপন করছে। পাশেই রয়েছে একটি বেসরকারী হাসপাতাল। বাতাসে ভেসে আসা দুর্গন্ধে রোগীরা হাসপাতালে অবস্থান করতে পারছেন না। তারা অন্যত্র চিকিৎসা নিতে চলে যাচ্ছেন।

পৌর মার্কেটের উত্তরা ব্যাটারির মালিক মনসুর আলী জানান, যেদিন থেকে এখানে পঁচা ময়লা ফেলা শুরু হয়েছে সেদিন থেকে পঁচা দুর্গন্ধে গ্রাহকরা আসছে না। এখানে বসে ব্যবসা করাই দুঃসহ হয়ে যাচ্ছে।

পাবনা মোটর মালিক গ্রুপের টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্বরত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে অনেক ভিআইপি যাত্রী আসছে না। যাত্রীরা বাসের মধ্যে পঁাঁচ মিনিটও বসে থাকতে পারছে না। ঢাকাগামী কোচ যাত্রী অনেক কমে যাওয়ায় বাস মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাবনা ইসলামীয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের এখানে ছোট বড় ৯টি প্র্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮ হাজাররের অধিক ছাত্র-ছাত্রী আছে। দুর্গন্ধের কারনে তারা ঠিকমত ক্লাস করতে পারে না। আবাসিক ছাত্ররা রুমে থাকতে পারছে না। অনেক সময় ছাত্ররা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। পাশেই মসজিদ কিন্তু দুর্গন্ধে সেখানে মসুল্লিরা নামাজ পড়তে পারে না। এখানে একটি হাসপাতাল থাকলেও রোগীরা আসা যাওয়া করতে পারে না।

অতি সত্তর এখান থেকে ময়লার স্তুপ স্থানান্তর করা প্রয়োজন পাবনা জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল্লাহ শেখ ও পাবনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক মিজান জানান, ময়লার পচা দুর্গন্ধে এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে আমরা শারিরীক, মানসিক ও অর্থনেতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। টার্মিনালের আশপাশে আমাদের শ্রমিকরা গাড়ি সার্ভিসিংসহ মেইন্টেইনের কোন কাজ করতে পারছেনা।

তারা আরো বলেন, নাকে রুমাল বেঁধেও এ এলাকা দিয়ে দিয়েও চলতে পারছি না। এখানকার ময়লার স্তপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পেটের নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে আসে। ময়লার স্তুপ সরানোর জন্য জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। দ্রুত এখানকার ময়লা অপসারণ করে এলাকার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অন্যথায় এখানকার ব্যবসায়িক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসবেন।

"