শাজাহানপুরের সাজাপুর পদ্মপুকুর

অভিযানের এক দিন পরই পুনরায় মাটি উত্তোলন

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মাসুম হোসেন, শাজাহানপুর (বগুড়া)

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় অবৈধভাবে এ্যাসকেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলনের সময় প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বগুড়া শাজাহানপুরের পদ্মপুকুরে মাঝিড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি তালেবুল ইসলাম পলাশের মাটির পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়ারা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা আদায় করেন। কিন্তু গতকাল বুধবার থেকে আবারো ওই মাটির পয়েন্টে এ্যাসকেভেটর দিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সাজাপুর পদ্মপুকুরে ট্রাক লাগিয়ে এ্যাসকেভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে হাতেনাতে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত দু’টি এ্যাসকেভেটর, চারটি মাটি বহনকারী ট্রাক ও মনা (২৬) নামের একজনকে আটক করা হয়েছিলো। কিন্তু আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে এ্যাসকেভেটর ও ট্রাক জব্দ না করে লোক দেখানো জরিমানা করা হয়েছে। এতে করে গতকাল বুধবার থেকে পুনরায় ওই পয়েন্ট থেকে মাটি কাটা শুরু করা হয়েছে। তারা আরও জানান, বিএনপি নেতা তালেবুল ইসলাম পলাশের ওই মাটির পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান ও যুগ্ম সম্পাদক হোসেন শরীফ মুনীর। এ কারণে প্রশাসন এ্যাসকেভেটর মেশিন ও ট্রাক জব্দ করেনি। প্রশাসনের এ কর্মকান্ডে হতবাক হয়েছেন তারা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী দোলন চক্রবর্তি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রায়হানা ইসলাম উপজেলার নির্বাচন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে এসেছিলেন। সাজাপুর পদ্মপুকুরে ভূমি আইন অমান্য করে ট্রাক লাগিয়ে এ্যাসকেভেটর দিয়ে মাটি উত্তোলন করা তার নজরে পড়েছিলো। এ কারণে শাজাহানপুর ইউএনও ফুয়ারা খাতুনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন তিনি।

পরবর্তিতে ইউএনও ফুয়ারা খাতুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রায়হানা ইসলামের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে জমির মালিক তালেবুল ইসলাম পলাশের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় কোন কিছু জব্দ ও কাউকে আটক করা হয়নি।

ইউএনও ফুয়ারা খাতুন জানান, সাজাপুর পদ্মপুকুরে আবারো অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"