মানিকগঞ্জে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব, নারীরাও পিছিয়ে নেই

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মানিকগঞ্জের কৃষকরা। জেলায় সবজি চাষে বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। আর সবজি উৎপাদনের এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অবদান রাখছেন। সংসারের বাড়তি আয়ে ভূমিকা রাখছেন।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বেশকয়েক বছর যাবৎ মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, সিংগাইর ও ঘিওর উপজেলায় বনিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এই এলাকার প্রায় সব কৃষকই কম বেশি সবজি চাষের সাথে জড়িত। এ বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করছেন তারা। শীতকালীন সবজি কপি, সিম, লাউ, মুলা, শশা, খিরাই, টমেটো, গাজর, বরবটি, লাল শাক, পালংশাক এবং গ্রীস্মকালীন সবজি ঢেড়স, পটল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, কুমড়া, পুইশাক, ডাটাসহ প্রায় ২০ ধরণের সবজি উৎপাদন করছেন কৃষকরা। এ বছর দুই হাজার হেক্টর জমিতে মুলা, ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাধাঁকপি, ১১শ হেক্টর জমিতে গাজর, ১০০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ৭০০ হেক্টর জমিতে টমেটো, ৩০০ হেক্টর জমিতে পালংশাঁক এবং ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য সবজি উৎপাদন করা হয়েছে। এ বছর ৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন সবজির উৎপাদনের আশা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সবজি তোলা ও সবজি কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। নারীরাও তাদের সাহায্য করছে। সদর উপজেলার জাগির ইউনিয়নের গারাকুল এলাকার কৃষক ইউনুস আলী জানান, কয়েকবছর আগেও তিনি এই জমিতে ভুট্টা, তামাক, পাট চাষ করতেন। কিন্তু এসব ফসলে তেমন লাভ না হওয়ায় কয়েকবছর যাবৎ সবজি চাষ করে আসছেন। এ বছর ১ লাখ টাকা খরচ করে ৭০ ডেসিমেল জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি আড়াই লাখ টাকার সবজি বিক্রয় করেছেন। বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর আগাম সবজি চাষে তার প্রায় ২ লাক্ষ টাকার মত লাভ হয়েছে।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, কৃষির জন্য মানিকগঞ্জের আবহাওয়া ও মাটির গুনগত মান অনেক ভালো। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে সবজি চাষে আরও আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

 

"