রংপুরের মাদকাসক্ত কেন্দ্রে মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

সরকারি শর্তাবলীর ৮০ শতাংশ সুযোগ-সুবিধা নেই রংপুরের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। এজন্য কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না ভূক্তভোগী পরিবারগুলো।

জানা যায়, রংপুরের অধিকাংশ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে মোটা অংকের টাকা খরচ করেও কাঙ্খিত সেবা মিলছে না। ফলে নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর আবারো মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা।

নগরীর মাদকাসক্ত কেন্দ্রগুলোর পরিচালকেরা জানান, নিরাময় কেন্দ্রগুলো থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরবর্তীতে রোগীর সঠিক পরিচর্যা ও রোগীর আচরনবিধি লক্ষ্য রাখা পরিবারের দায়িত্ব। যা অধিকাংশ পরিবারগুলো সঠিকভাবে পালন করেন না। ফলে ৭০ ভাগ রোগী অসৎ সঙ্গ ও বিভিন্ন প্ররোচনায় পুনরায় মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনার জন্য আবাসিক এলাকায় পাকা বাড়ি বা ভবন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ থাকতে হবে। একজন রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অন্যদিকে, প্রতি ১০ বেডের জন্য পৃথক একটি টয়লেট, বাথরুম, বিশুদ্ধ পানি, অন্যান্য সুব্যবস্থা এবং খন্ডকালীন বা সার্বক্ষণিক একজন মনোচিকিৎসক, সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স, একজন সুইপার বা আয়া এবং জীবন রক্ষাকারী উপকরণ ও অত্যাবশ্যক ওষুধ থাকতে হবে। এ ছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত, কফ, মলমূত্র ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত যে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা থাকতে হবে। এ বিষয়ে কথা হলে সাংবাদিকদের রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, যদি রংপুরের কোনো মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করা হয় এবং তা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে ওই নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদ হোসেন জানান, রংপুর নগরীতে নিবন্ধিত মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে ৬টি। বিষয়টি তদারকির জন্য প্রতিমাসে নিরাময় কেন্দ্রগুলো ভিজিট করা হয়। আশা করি কিছু সময় সাপেক্ষে ওইসব নিরাময় কেন্দ্র থেকে কাংক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে। তবে, সরকারিভাবে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র খোলা হলে সব সমস্যার সমাধান হতো।

 

"