হাজীগঞ্জে জনবল সংকটে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন

চারজনের স্থলে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে কার্যপরিচালনা

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপসহকারী পরিচালকের (বীজ বিপনন) কার্যালয় ও থানা বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে রয়েছে জনবল সংকট। কার্যালয়ে ৪ পদের বিপরীতে কাজ করছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী। চলতি দায়িত্বে থাকা একজন উপপরিচালক থাকলেও তিনি অফিসে আসা-যাওয়া করছেন নিজের ইচ্ছামতো। যার ফলে বীজ কিনতে (ক্রয়) এসে প্রায় সময়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় কৃষকদের।

স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) এর কার্যালয়ের উপজেলা পর্যায়ে একজন উপ-সহকারী পরিচালক, গুদাম রক্ষক (ষ্টোর কিপার), চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস) এবং পাহারাদারসহ চারটি পদ রয়েছে। চলতি দায়িত্বে উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুর রহমান ছাড়া বাকি তিন পদ রয়েছে শুন্য। দায়িত্বে থাকা সাইফুর রহমান একই বিভাগে কুমিল্লায় মার্কেটিংয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি নিজের ইচ্ছেমতো এবং নিয়মিত কুমিল্লায় অফিস করায় হাজীগঞ্জের কার্যালয়টি রয়েছে মূলত জনবলহীন। যদিও গোলাম মোস্তফা নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারি এখানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি বীজ বিক্রয়সহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উপ-সহকারি পরিচালক সাইফুর রহমান কুমিল্লায় নিয়মিত অফিস করার কারনে তাকে হাজীগঞ্জে পাওয়া যায়না। ইরি-বোরো ধান বপনের মৌসুমে নিয়মিত কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় মাঝে মাঝে কৃষকদের বিপাকে পড়তে হয়। ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেও প্রায় সময় কৃষকদের খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলা চত্ত্বরের একটি টিনশেড বিল্ডিংয়ে রয়েছে উপজেলা উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) এর কার্যালয়টি। সেখানে গিয়ে কথা হয় অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারি গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে অবসরে গিয়েছি। এখানে জনবল না থাকায় স্যারের (সাইফুর রহমান) অনুরোধে কাজ করছি। কৃষক আসলে ধান বিক্রি করি, না আসলে বসে থাকি। উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) সাইফুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এখানে ৪ পদের বিপরীতে তিনিই আছেন। কুমিল্লায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় দুই স্থানে তাকে অফিস করেন হয়। তাই অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারি গোলাম মোস্তফাকে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে হাজীগঞ্জে কাজ করাচ্ছেন। লোকবল সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বীজ বিপনন কুমিল্লা অঞ্চল এর উপ-পরিচালক নিগার হায়দার খাঁন জানান, জনবল সংকট থাকায় হাজীগঞ্জে লোক দেয়া যাচ্ছে না। তবে মাষ্টাররোলে একজন অফিস সহকারি পাঠাবেন বলে তিনি জানান।

ইউএনও বৈশাখী বড়–য়া বলেন, উপজেলার উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) এর কার্যালয়ের জনবল সংকট রয়েছে। তাছাড়া উপ-পরিচালক হিসেবে যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি আবার কুমিল্লায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাই ওই কর্মকর্তাকে হাজীগঞ্জে নূন্যতম দুই দিন অফিস করতে বলা হয়েছে।

"