ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আজ (৩ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এইদিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে পরাজিত হয় পাকবাহিনীর। আর এ বিজয় ছিনিয়ে আনতে ১০ হাজার নারী পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ২ হাজার মা-বোন। স্বাধীন বাংলাদেশের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও শহর।

জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আযোজনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি পালনে সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দাবি মুক্তিযোদ্ধাসহ সকলের।

জেলা মহকুমা ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ে পাক বাহিনীর হাতে প্রথম শহীদ হয় রিক্সা চালক মোহাম্মদ আলী। পরদিন ২৮ মার্চ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি উচ্চারণ করায় শিশু নরেশ চৌহানকে গুলি করে হত্যা করে পাকবাহিনীর সদস্যরা। সেময় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফজলুল করিমের নির্দেশে ১০টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করা হয়। পাকিস্তানী বাহিনীকে ঠাকুরগাঁওয়ে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য ২০টি জায়গা নির্ধারন করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। ১০ এপ্রিল থেকে জেলার সঙ্গে অন্যান্য মহকুমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সৈয়দপুরে পাকিস্তানী সেনারা শক্ত ঘাটি করে এগিয়ে আসতে শুরু করে। ১৫ এপ্রিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাক বাহিনীর দখলে চলে যায় ঠাকুরগাঁও। তবে পাশ্ববর্তী পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াকে কেন্দ্র করে ১৫০ বর্গমাইলের ১টি মুক্তাঞ্চল গড়ে উঠে। সেখানে পাক বাহিনী কখনও ঢুকতে পারেনি। সেখান থেকেই পরিচালিত হয় চুড়ান্ত লড়াই।

সবচেয়ে বড় বর্বরোচিত গণহত্যাকা- চালায় সদর উপজেলার জাঠিভাঙ্গা এলাকায়। ২৩ এপ্রিল সেখানে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ২ হাজার ৬০০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পাথরাজ নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করে। স্বামী হারিয়ে সে দিনের বিভৎস ক্ষত নিয়ে এখনও বেচে আছে ৪ শতাধিক বিধবা। ২ ডিসেম্বর সারারাত প্রচন্ড গোলাগুলির পর শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে। ৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও।

জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত হয়েছিল। সে লক্ষে এ বছর দিবসটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য পালন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শহীদ হয়েছে তাদের স্ত্রীকে বিধবা ভাতা দেয়ার জন্য সরকার কাজ করছে যাচ্ছে। দ্রুত তাদেরকে বিধবা ভাতা দেয়া হবে।

"