বিজয়ের চিহ্ন

আজ কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

আজ (৩ ডিসেম্বর) কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস। ৭১ এর এই দিনে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া হানাদার মুক্ত হয়েছিল। অনেক দুঃখ বেদনার পরও সেদিন এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ আর উল্লাস। কোটালীপাড়াবাসি পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ।

৭১’র ৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাকডাঙ্গা রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালিয়ে ক্যাম্পটি দখল করে নেয়। রাজাকার ক্যাম্পের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করেন। এরই মধ্যে দিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে হেমায়েত বাহিনী সকাল ১০টায় উপজেলার টুপরিয়া গ্রামে অবস্থিত হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি যাদুঘরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির ঘোষনা হাতে নিয়েছে।

জানা গেছে, মুক্তযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ অঞ্চলে পাকবাহিনী ও তাদের দোষরা ছিল খুবই শক্ত অবস্থানে। আর সে কারণে কোটালীপাড়ার সন্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈনিক হেমায়েতউদ্দিন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে পালিয়ে আসেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। সাড়ে ৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। কোটালীপাড়ায় তিনি একটি ট্রেনিং ক্যাম্পও গড়ে তোলেন। যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও যুদ্ধের ট্রেনিং দেয়া হতো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি সম্মূখ যুদ্ধে অবতীর্ন হয় হেমায়েত বাহিনী। উলেখযোগ্য যুদ্ধ হয় হরিনাহাটি, মাটিভাঙ্গা, বাশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া, রামশীল, জহরের কান্দি, কোটালীপাড়া সদরসহ অনেক স্থানে। এ ছাড়াও ছোট যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি স্থানে। আর এ সব যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন হেমায়েত বাহিনী প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুজিবুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শুধু যৌথবাহিনীই দেশ মাতৃকার মুক্তিযুদ্ধ করেনি। পাক হানাদার বাহিনীকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে তৎকালীন সময়ে এদেশে কয়েকটি অঞ্চলে গঠিত হয়েছিল কয়েকটি বাহিনী। ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘হেমায়েত বাহিনী’। আমরা এই হেমায়েত বাহিনীর অধিনে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামচুল হক বলেন, ৭২টি গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। তার মধ্য থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ২৪জন আহত ও ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

"